রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইচ্ছা ও সুযোগ থাকলে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব, তা ব্র্যাকের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে পেশাদার নারী চালকদের প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে ‘চালকের আসনে নারী: সাফল্য উদযাপন, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন খাত’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করা ১১তম ব্যাচের ১০ জন নারী চালকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আগামী বাংলাদেশকে সবার উপযোগী এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের ভিত্তিতে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
দেশের পরিবহন খাতে গাড়ি চালনায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং তাদের জন্য সব ধরনের লাইসেন্সিং ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বিআরটিএর দরজা সবসময় খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নানান বৈষম্য ও সামাজিক বাধা টপকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা এই নারীরা আজকে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেছেন। স্টিয়ারিং ধরা মানে শুধু গাড়ি চালানো নয়, তারা আমাদের অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবেন। বিআরটিএ চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বলছি, আমাদের দরজা সবসময় আপনাদের জন্য উন্মুক্ত।’
দেশে ও বিদেশে নারী চালকদের বড় চাহিদা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে গাড়ি মালিকদের প্রতি নারীদের সম্মানজনক মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, ‘দক্ষতা ও সক্ষমতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ চালকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ব্র্যাকের নিজস্ব পরিবহন বহরেই বর্তমানে ২৪ জন নারী চালক কর্মরত আছেন।’
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নারী চালকদের চাহিদা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এই নারীদের যদি ‘‘কেয়ার গিভিং’’ বা ‘‘হাউজহোল্ড হেল্প’’ এর মতো বহুমুখী দক্ষতা (মাল্টি-স্কিল) দেওয়া যায়, তবে তারা দেশের বাইরে আরও উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।’
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারি ট্রান্সপোর্ট পুলে এসব নারী চালকদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তামারা হাসান আবেদ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্র্যাকের ‘ফোর হুইলস টু ফ্রিডম’ উদ্যোগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৭৯ জন সুবিধাবঞ্চিত নারী পেশাদার চালক হিসেবে এবং ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪,৫০০ এর বেশি নারী অপেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করা এই ১০ জন নারী ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক ও হাতে-কলমে ড্রাইভিং শেখার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা এবং জেন্ডার ও সুরক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এবং কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক এম খালিদ মাহমুদ।