পুরুষতন্ত্রের সমালোচনা করা আর পুরুষবিদ্বেষী হওয়া এক বিষয় নয়- এবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এমনটাই স্পষ্ট করলেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা।
তার দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে করা মন্তব্যের প্রকৃত অর্থ বদলে দিয়ে তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন তিনি পৃথিবীর সব পুরুষকেই পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিতর্কিত সেই মন্তব্য প্রসঙ্গে মুখ খোলেন দিয়া। তিনি জানান, তার সমালোচনার লক্ষ্য কোনও ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট লিঙ্গ নয়; বরং পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতার কাঠামো, শোষণ এবং অতিরিক্ত ভোগের মানসিকতা।
ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। সোহা আলি খানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংকট নিয়ে কথা বলেছিলেন দিয়া।
সেখানে তিনি বলেছিলেন, পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটানোর পেছনে পুরুষদের ভূমিকা রয়েছে এবং বিশৃঙ্খলার জন্য তারাই দায়ী। একই আলোচনায় তিনি পিতৃতন্ত্রকে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
দিয়ার দাবি, তার বক্তব্যকে প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে এমন একটি বয়ান তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তাকে পুরুষবিদ্বেষী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, তিনি কখনও বলেননি যে পৃথিবীর প্রতিটি পুরুষ জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী। বরং তিনি যে কাঠামোর সমালোচনা করেছেন, সেটি হলো এমন একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা, যেখানে শোষণ, সীমাহীন ভোগ এবং সম্পদের অপব্যবহারকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়।
দিয়া বলেন, পিতৃতন্ত্রের সমালোচনা মানেই পুরুষবিদ্বেষ নয়। যখন বলা হয় পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী, তখন সেটিকে পুরুষদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই।
‘পিতৃতন্ত্র’ বলতে তিনি কী বোঝেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন দিয়া। তার মতে, এটি এমন এক মানসিকতা ও ক্ষমতার কাঠামো, যেখানে সমতা, যত্ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের চেয়ে আধিপত্য ও ভোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দিয়ার ভাষায়, এই মানসিকতা শোষণমূলক, ভোগবাদী এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। আর এর বিপরীতে তিনি এমন একটি মানসিকতার কথা বলেন, যার ভিত্তি হবে লালন, সমতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা।
তার মতে, পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল উন্নয়ন বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে তাকালে হবে না; প্রকৃতি, সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে।