মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অবশিষ্ট চারটি ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল দ্রুত প্রকাশ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে আজ রোববার সারাদেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী ও চাকরিপ্রার্থীরা।
স্মারকলিপিতে ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় বাকি চারটি ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের ফলাফল দ্রুত প্রকাশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। চাকরিপ্রার্থীরা জানান, একই বিজ্ঞপ্তির ২৮টি ক্যাটাগরির মধ্যে ২৪টি ক্যাটাগরিতে ৩,৪২২টি পদের নিয়োগ সম্পন্ন হলেও এই চারটি ক্যাটাগরির ফল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। পদগুলো হলো- প্রদর্শক ৫১৪টি, গবেষণা সহকারী ২১টি, সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার ৬৯টি এবং ল্যাবরেটরি সহকারী ৬টি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রার্থীর চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে, ফলে তারা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
চূড়ান্ত ফলাফলের দাবিতে ঢাকায় মাউশি প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রার্থীরা একাধিকবার মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন পরিচালনা করেছেন। ২০২৫ সালে ১৭ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত তারা আমরণ অনশন পালন করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে বলে তারা অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ২৯ জুন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে দেওয়া স্মারকলিপি।
প্রার্থীদের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নিয়োগের কোটা-সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৩ এপ্রিল মাউশি মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে সাত দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান এবং গত ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুরে মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘আমাদের আসলে কোনো জায়গায় স্থান নেই, আপনারা ভালো করেই জানেন, যারা বেকার তাদের কোনো জায়গায় দাম নেই। আমরা নিয়োগ ২০২০ এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী। এখানে একই নিয়োগের দ্বৈত নীতি! অর্থাৎ মাউশির নিয়োগ ২০২০-এ প্রায় ৪০৩২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু একই নিয়োগের ২৮ ক্যাটাগরির রেজাল্ট প্রকাশ হলেও ৪টি ক্যাটাগরির রেজাল্ট মাউশি ঝুলিয়ে রাখে।’
সংগঠনের মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘চলতি বছরে শিক্ষা সচিব মাউশির মহাপরিচালককে ফলাফল প্রকাশের অনুমতি দেওয়ার কথা জানালেও এখনো তা প্রকাশ করা হয়নি, যা প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।’
ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না। তারা স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করে প্রার্থীদের আর্থিক ও সামাজিক সংকট থেকে মুক্তির দাবি জানান।
সংগঠনের সভাপতি মো. জোবায়ের আহমেদ রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। একই দাবিতে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সদস্য সচিব জাকারিয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস ও হাজেরা খাতুন স্মারকলিপি দেন।
এছাড়া ঢাকায় ফিরোজ আল মামুন; চট্টগ্রামে রাইসুল, হাফসা, শহিদুল ও জুলফিকার; রাজশাহীতে আতিকুর রহমান সরকার; খুলনায় সাইফুল ইসলাম ও জহির আলম হাওলাদার; বরিশালে ইবনে হাসান তুষার; সিলেটে মওদুদ হাসান চৌধুরী; ময়মনসিংহে খাইরুল ও আজহারুল ইসলাম; বগুড়ায় রাসেল মিয়া; কুমিল্লায় মেরাজুল মেরাজ; মাগুরায় নাজমুল আলম; জয়পুরহাটে মো. রাসেল; ফরিদপুরে হাসিবুল হাসান শান্ত; মুন্সীগঞ্জে আহসান হাবিব; কুড়িগ্রামে আব্দুর রাজ্জাক; নীলফামারীতে মো. জাকারিয়া; সিরাজগঞ্জে নাসির উদ্দিন; ঠাকুরগাঁওয়ে দেলোয়ার হোসেন ও কাদের; নাটোরে নিবাস কুমার মাহাতো; কুষ্টিয়ায় আবু ওবায়েদ; গাইবান্ধায় দীপক কুমার মহন্ত ও আকতারা খাতুন; কক্সবাজারে সাদ্দাম হোসেন; নারায়ণগঞ্জে সেলিম রেজা; পাবনায় আবদুল আলিম; যশোরে পরিমল কুমার; শেরপুরে নুর মোহাম্মদ এবং দিনাজপুরে অমলেশ অধিকারী অমলসহ দেশের অন্যান্য জেলার প্রতিনিধিরা নিজ নিজ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন।