আমি আর পুলিশ হত্যার বিচার চাইব না, আমাকে সাধারণ ক্ষমা করে দেন। আমার ছোটো একটা বাচ্চা, আমাকে বাচ্চার কাছে ফিরে যেতে দেন। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করার সময় এ কথাগুলো বলেছেন পুলিশ কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান জয়।
তিনি আওয়ামী সরকারের পতনের পর নিজেদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সংগঠিত করতে গিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
এদিন তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরা বিটিভি ভবনের পাশে আবু নোমান নামে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার মামলায় শোয়াইবুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে সিএমএম আদালত হাজির করা হয়।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরনী মীর শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
আজ শুনানির জন্য তাকে এজলাসে তোলার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে শোয়াইবুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের চাকরিতে আমি এমন কোনো কাজ করিনি যে, মামলা দেবে। পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে বলব, আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি ক্ষমা চাইতেছি। আমি পুলিশ ভাইদের হত্যার বিচার চেয়েছিলাম। আমি আর কখনো চাইব না। আমাকে সাধারণ ক্ষমা করে দেন। আমার ছোটো একটা বাচ্চা, আমাকে বাচ্চার কাছে ফিরে যেতে দেন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলতে চাই, আপনি একজন সৈনিকের সন্তান। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি অন্যায় কিছু করিনি। আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করি। তাকে বলতে চাই, কেন আমাকে বারবার মিথ্যা মামলায় দেয়া হচ্ছে। আমাকে মামলা দেয়া হচ্ছে কমিশনার জানে না, আইজিপি জানে না। তাহলে কে মামলা দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বলা হয় আগে স্বৈরাচার ছিল, তাহলে এখন স্বৈরাচারী কায়দায় কে মামলা দিচ্ছে। আমি পুলিশের প্রত্যেকটা স্যারের কাছে ক্ষমা চাইছি, আমার ভুল কোনটা ছিলো? আমি কনস্টেবল শোয়াইব, আমার ভুল কোথায় ছিলো আমি জানতে চাই। আমি কোনো দলের ছিলাম না। আমি যদি কোনো দলের থেকে থাকি, আমাকে যেন আরো মামলা দেয়া হয়। আমি যদি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকি, তাহলে আমাকে যেন ফাঁসি দেওয়া হয়।‘
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীরা রামপুরা বিটিভি ভবনের পাশে আন্দোলন করছিল। সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হন আবু নোমান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রামপুরা থানায় মামলা করেন।