গানের কথা ও ভিডিওতে নারীর শরীর নিয়ে কু-ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে পঞ্জাবি গায়ক বাদশার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভারতের হরিয়ানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খবর অনুযায়ী, হরিয়ানার পঞ্চকুলা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৬ ধারা এবং নারীর অশালীন উপস্থাপনা (নিষেধ) আইন ১৯৮৬–এর ৩ ও ৪ ধারায় অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। মামলার শুনানির জন্য আগামী ১৩ মার্চ সকাল ১১টায় পানিপথের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু বাদশার হরিয়ানভি গান ‘টাট্টিরি’। অভিযোগকারীদের দাবি, গানের ভিডিওতে স্কুলের পোশাক পরা মেয়েদের দেখানো হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তারা কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে নাচতে শুরু করছে। সমালোচকদের মতে, এমন উপস্থাপনা সমাজে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং নারীদের প্রতি অশালীন ইঙ্গিত বহন করে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৬ ধারা জনসমক্ষে অশ্লীল কাজ বা গান পরিবেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখে। এ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে নারীর অশালীন উপস্থাপনা (নিষেধ) আইন ১৯৮৬–এর ৩ নম্বর ধারা নারীর প্রতি অশালীন বা আপত্তিকর বিজ্ঞাপন, গান বা উপস্থাপন নিষিদ্ধ করে। আর ৪ নম্বর ধারা নারীর অশালীন উপস্থাপনা রয়েছে এমন বই, প্রচারপত্র, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য প্রকাশনার প্রচার বন্ধ করার বিধান দেয়।
এই আইনে প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। একই অভিযোগে আবার দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি বেড়ে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দশ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে।
পঞ্চকুলার সেক্টর বিশের সাইবার অপরাধ থানায় প্রথম অভিযোগ করেন অভয় চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হরিয়ানা মহিলা কমিশন।
কমিশনের চেয়ারম্যান রেণু ভাটিয়া বলেন, ‘গানটির ভাষা ও ভিডিও ভারতীয় সংস্কৃতি ও শালীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এর প্রভাব তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক হতে পারে।’