বহুল প্রতিক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কবে থেকে এবং কেন কাজ শুরু করেছেন, তাজানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আমরা রিসার্চ করেছি। সেখানে উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন যুক্ত ছিলেন।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রিসার্চ করে দেখা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডে আমরা যে টাকাটা দিচ্ছি, এটা যদি আপনি একজন পুরুষ মানুষের হাতে দেন, যেই মাসে তিনি টাকাটা পাবেন, এক সপ্তাহের মধ্যে টাকাটা খরচ হয়ে যাবে। ওই যে বিকেল বেলা আড্ডায় বসবে মোড়ের দোকানে চা-বিস্কুট খাবে, এই চা দাও ওকে পাচটা, এই ওকে কেক দাও, টাকা শেষ। কিন্তু রিসার্চ যেটা বলে, আপনি যদি এটা কোনো একজন মহিলা গৃহিণীর হাতে দেন, সে কিন্তু খুব হিসাব করে প্রথমেই সে তার ফ্যামিলির জন্য যেটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, ওষুধ, ছেলে-মেয়ের বই খাতা হোক বা শিক্ষার ব্যবস্থা হোক বা একটু বেটার ফুড হোক-এই জিনিসগুলো সে চিন্তা করবে।’
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে রিসার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনি নিজেকে দিয়ে চিন্তা করে দেখেন, যখন প্রথম বেতন পেয়েছেন মনে হচ্ছে এটা কিনব, সেটা কিনব। কিন্তু একসময় কিন্তু আপনার ডিমান্ডটা কমে আসে। তখন কিন্তু আস্তে আস্তে আপনি সেভিং করেন। ঠিক একইভাবে এখানেও কিন্তু মহিলা একপর্যায়ে সেভিং করবে, ওখান থেকে সেভিং করবে। সেভিংটা সে কি করবে? ডেফিনেটলি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যাদেরকে সহযোগিতা করছেন, বেনিফিটটা দিচ্ছেন সেখান থেকে উনি সেভিংটা করবে। সেভিংটা করার ফলে তিনি আস্তে আস্তে যখন একটা সেভিং হবে, তখন ওর ছোট্ট নিজের একটা বিজনেস হয়তো চালু করবে। ১০টা মুরগি, পাঁচটা ছাগল -এরকম পালবে। তখন ওই টাকাটাও খরচ করবে। ওর বাচ্চার জন্য একটা নতুন ড্রেস কিনবে অথবা অর্নামেন্টের গয়না কিনবে অথবা চিপস কিনবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি দেখুন, ড্রেসটা যে সে কিনছে, সে কি কোনো ব্র্যান্ডেড ড্রেস কিনছে না? কাপড় সেটাই কিনছে যেটা লোকাল ফ্যাক্টরি, লোকাল গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করছে। ও লোকাল কোম্পানি অর্থাৎ দেশীয় কোম্পানির চিপস কিনছে। অর্নামেন্টাল যেটা কিনবে ও কি কোন ব্র্যান্ডেড অর্নামেন্টাল কিনবে তা না। দেশীয় ছোট ছোট জুয়েলারি ফ্যাক্টরি যারা আছে অর্নামেন্ট বানায়, যারা আর্টিফিশিয়াল অর্নামেন্ট বানায়, সেটা কিনবে সে। অর্থাৎ এই টাকাটা কিন্তু লোকাল ইন্ডাস্ট্রিতে যাচ্ছে। আপনি চিন্তা করে দেখুন একটা গ্রামে যদি আপনি ৩০০ মহিলাকে আড়াই হাজার টাকা মাসে দেন, তাহলে ৩০০ ইন আড়াই হাজার কত হচ্ছে- ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এক মাসে যাচ্ছে একটা গ্রামে। মুদির দোকান ধরেন, সেই মুদির দোকানে মাসের প্রথম সপ্তাহে ১০০ জনের মধ্যে যদি মোটামুটিভাবে একেকজন মানুষ এভারেজ প্রতিদিন সে ৫০ থেকে ১০০ টাকা স্পেন্ড করে, তখন কিন্তু স্পেন্ডিংটা তার বেড়ে যাবে। অর্থাৎ মুদির দোকানের সেলটা কিন্তু বাড়বে। তার বেশি পরিমাণ চিপসের প্যাকেট যাবে। তার বেশি পরিমাণ অন্যান্য দ্রব্য বিক্রি হবে। এখন হয়তো সে নিজেই দোকানটা চালায়, কিন্তু যখন ৩০০ জন মানুষ এসে প্রতিমাসে ১০০০ টাকার জিনিস কিনবে তখন কিন্তু ওই মুদির দোকানদারের একটা কর্মচারী রাখতে হবে। অথবা দুইটা কর্মচারী রাখতে হবে। তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে, ওর কিন্তু দ্রুত দুইজনের কর্মসংস্থান হলো।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এইভাবে আমাদেরকে জিনিসটা চিন্তা করতে হবে। ভাবে ঠিক একইভাবে কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রেও কিন্তু জিনিসটা এরকমই হচ্ছে। অর্থাৎ যেটা আমরা চাইছি প্রায় ৭৫% মানুষ গ্রামে বসবাস করে। ইকোনমিকভাবে যাতে এমপাওয়ারড হয়। এই টাকাটা কিন্তু পাচার হচ্ছে না। এই টাকাটা ভেরি মাচ আমার ইকোনমির মধ্যে রয়ে যাচ্ছে। ইনডাইরেক্টলি আমার দেশীয় যে ইন্ডাস্ট্রিগুলো আছে, সেগুলোকে যাতে আমরা সাপোর্ট দিতে পারি, আমরা ইনসেপটিভ দিতে পারি। এভাবেই আমরা ইকোনমিক গ্রোথ করতে চাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ফ্যামিলি কার্ড আমরা প্রথমে ঠিক করেছিলাম যেকোনো ধরনের মানুষ পাবে। পরে চিন্তা করে দেখলাম, না আমরা যদি শুধু সিলেক্ট করে দেই যেকোনো মানুষ পাবে, তাহলে এখানে একটা করাপশনের পসিবিলিটি রয়ে যায়। যেটা আমাদের দেশে হয়। সেজন্য আমরা তখন ঠিক করলাম এটা আমরা ইউনিভার্সাল করে দিব। একজন কৃষকের স্ত্রী, একজন মুদি দোকানের স্ত্রী, একজন স্কুল মাস্টারের স্ত্রী, একজন মসজিদের মক্তবের একজন শিক্ষক তার স্ত্রী যেমন পাবে, আমার স্ত্রী পাবে, আপনাদের সকলের স্ত্রী পাবে। কিন্তু আড়াই হাজার টাকা আমাদের মোটামুটি অনেকের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশে প্লাস-মাইনাস চার কোটির মতো ফ্যামিলি আছে। চার কোটি ফ্যামিলির যে ওয়াইফরা আছেন, চার কোটিকে আমরা ইনশাআল্লাহ দেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু আমাদের হিসাব বলে দেড় কোটির মতো ফ্যামিলির প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ দেড় কোটি রিসোর্স কিন্তু স্টেটের কাছে ফেরত আসছে। সুতরাং জিনিসটাকে আমরা বেটারভাবে আর ইউটিলাইজ করতে পারব। ইনশাআল্লাহ আমরা এই বছর থেকে, এই জুলাই মাস থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য প্রায় ৪১ লক্ষ ২০ হাজার ফ্যামিলিকে পৌঁছে দিব। ভুলভ্রান্তি কিছু থাকতে পারে, তারপরও যাতে কম হয় সেজন্য আমরা গত তিন মাসে পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছি।’