বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

দ্রুত ছড়াচ্ছে ‘মস্তিষ্কখেকো’ অ্যামিবা, বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

প্রতিবেদকের নাম

পানির অপর নাম জীবন হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেই পানিই ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকির উৎস। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মাটি ও পানিতে এমন কিছু বিপজ্জনক অণুজীব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যেগুলো আগে শুধু নির্দিষ্ট উষ্ণ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল।

সম্প্রতি Biocontaminants সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ফ্রি-লিভিং অ্যামিবা নামের একদল অণুজীবকে জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা এককোষী জীব, যা মাটি, হ্রদ, নদী এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত পানিতেও থাকতে পারে। বেশিরভাগ অ্যামিবা মানুষের জন্য ক্ষতিকর না হলেও কিছু প্রজাতি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো Naegleria fowleri, যা সাধারণভাবে ‘মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা’ নামে পরিচিত। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জলাশয়েও এই ধরনের জীবাণুর উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত পানিতে সাঁতার কাটার সময় এই অ্যামিবা নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এরপর এটি স্নায়ুপথ ধরে মস্তিষ্কে পৌঁছে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়। যদিও এ ধরনের সংক্রমণ খুবই বিরল, তবে একবার আক্রান্ত হলে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

গবেষকদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। উষ্ণ পানিতে অ্যামিবা দ্রুত বংশবিস্তার করে। আগে যেসব শীতপ্রধান দেশে এই অণুজীব প্রায় অনুপস্থিত ছিল, এখন সেসব অঞ্চলের জলাশয়ের তাপমাত্রা বাড়ায় সেখানেও অ্যামিবার অস্তিত্ব ধরা পড়ছে। এ বিষয়ে চীনের Sun Yat-sen University-এর গবেষক লংফেই শু জানান, এই অণুজীব অত্যন্ত সহনশীল এবং প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—সাধারণ পানি পরিশোধন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্লোরিনের মতো শক্তিশালী জীবাণুনাশকও অনেক ক্ষেত্রে ফ্রি-লিভিং অ্যামিবাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে পারে না। তারা পানির পাইপ ও স্টোরেজ ট্যাংকের ভেতরে বসবাস করতে পারে। ফলে পানি স্বচ্ছ ও গন্ধহীন মনে হলেও ভেতরে ক্ষতিকর জীবাণু লুকিয়ে থাকতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই অ্যামিবা শুধু নিজেই সংক্রমণ ঘটায় না; বরং এর কোষের ভেতরে অন্যান্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে আশ্রয় দেয়। এতে করে সেসব জীবাণু আরও শক্তিশালী ও অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা