সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

‘বাবার পায়ের ফাটলে দেখি দুঃখের মানচিত্র’-বাবা দিবসে অভিনেতা ইফতেখার ইফতির আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস

বিনোদন প্রতিবেদক:


বাবা দিবসে নিজের জীবনের গভীরতম অনুভূতির কথা তুলে ধরে আবেগঘন একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেতা ইফতেখার তুহিন ইফতি। সেখানে তিনি বাবার ত্যাগ, ভালোবাসা ও সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরে লিখেছেন, তাঁর বাবার পায়ের শত ফাটলে তিনি আজও দেখতে পান “দুঃখের মানচিত্র”।

স্ট্যাটাসে অভিনেতা জানান, সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে রাতে বাবার পা টিপে দিতে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করেন, বয়স ও পরিশ্রমের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সেই পায়ে। খসখসে ও ফাটা পায়ের দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে পড়ে যায় শৈশবের দারিদ্র্য, সংগ্রাম আর বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার অসংখ্য স্মৃতি।

ইফতি লেখেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁকে থাকতে হয়েছিল মামার বাড়িতে। সেই সময় পুরোনো একটি সাইকেল চালিয়ে বাবা প্রায়ই ছেলেকে দেখতে যেতেন। একবার গিয়ে দেখেন, ঘরের ফ্যান থাকা সত্ত্বেও সেটি চালানোর স্বাধীনতা ছিল না তাঁর ছেলের। প্রচণ্ড গরমে ঘেমে-নেয়ে ঘুমিয়ে থাকা সন্তানকে দেখে কষ্টে চুপচাপ ফিরে যান তিনি। পরে ঘুম থেকে উঠে বাবাকে না পেয়ে যে হাহাকার তৈরি হয়েছিল, সেটি আজও ভুলতে পারেননি অভিনেতা।

শুধু তাই নয়, তিনি স্মরণ করেন বাবার আরেকটি ত্যাগের কথা। ঢাকায় চাকরির উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠেও সন্তানের মুখ মনে পড়ে যাওয়ায় মাঝপথ থেকে ফিরে এসেছিলেন তাঁর বাবা।

অভিনেতার ভাষ্য, বাবাদের ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশ্যে আসে না, কিন্তু তিনি সবসময় সেই ভালোবাসার গভীরতা অনুভব করেছেন। ছোটবেলায় বাবার হাতে শাসনও পেয়েছেন, তবে পরে জানতে পেরেছেন— তাঁকে মারার পর বাবা নিজেই অন্য ঘরে গিয়ে কেঁদেছেন।

বর্তমানে নিজেও একজন বাবা হওয়ায় বাবার অনুভূতি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন বলে জানান ইফতি। তিনি লিখেছেন, “আগে শুধু বাবার দুঃখ বুঝতাম, এখন আমি দুঃখের রঙগুলো বুঝি।”

স্ট্যাটাসের শেষাংশে বাবার দীর্ঘায়ু কামনা করে অভিনেতা লেখেন, “বাবা দিবসে একটাই চাওয়া— আমার বাবার আয়ু আমার মৃত্যুর সমান হোক।”

অভিনেতার এই আবেগঘন লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বাবা-সন্তানের অকৃত্রিম সম্পর্কের এমন প্রকাশে অনেকেই আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা