মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য: প্রেস সচিব

প্রতিবেদকের নাম

রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। আজ সোমবার বেলা ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকার তোষামোদ ও বন্দনার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে। অতীতে মঞ্চে উঠে দীর্ঘ সময় বন্দনা করার যে প্রথা ছিল, তা থেকে সরকার সরে এসেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক যেসব বিষয় দীর্ঘদিন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো থেকেও বেরিয়ে আসা গেছে।’

সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের হিসাব তুলে ধরে সালেহ শিবলী বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সাধারণত সরকারগুলোর প্রথম ১০০ দিনকে একটি ‘‘হানিমুন পিরিয়ড’’ হিসেবে ধওে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়, যা প্রথাগতভাবে চলে আসছে। এটি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত কোনো বিষয় ছিল না। মূলত কাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রাথমিক ফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতেই এই ১৮০ দিনের পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।’

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা ধরে ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অতীতে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের নজির দেখা যায়নি।’

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনাকে সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, ‘রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতীতে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার দায় সরাসরি সরকারের না থাকলেও জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে শোকাহত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’

কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে সালেহ শিবলী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতি যেমন নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি নাগরিকের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা সমান। রাষ্ট্র তার সাধ্য অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াবে। এই রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী, তার দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’’ চেতনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে মিরপুরে সেনাবাহিনীর একজন নিহত কর্মকর্তার বাসায় প্রধানমন্ত্রীর নিজে উপস্থিত হওয়া প্রমাণ করে যে সরকার মজলুমের পাশে রয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পছন্দ করেন। সম্প্রতি বাসযাত্রার সময় রাস্তা অতিমাত্রায় ফাঁকা রাখার বিষয়টি নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনো ভোগান্তি না হয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করা এবং নিজেকে আলাদা না ভাবাই নতুন বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন।’

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল,প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন,সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা