রাজধানীর পৃথক হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
যাত্রাবাড়ী থানার যুবক পারভেজ হাওলাদার হত্যা মামলায় নুরুল ইসলাম সুজনকে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। আর বিএনপি নেতা শহীদ ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলায় শাহজাহান ওমরকে মেট্রোপলিটন মাহবুব আলম গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।
পারভেজ হত্যা মামলায় নুরুল ইসলাম সুজনকে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই জাকির হোসেন এবং আদাবর থানার এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ বিএনপি নেতা শহীদ ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলায় গত ২৪ আগস্ট শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আজ শুনানিকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, ‘নুরুল ইসলাম সুজন পাঁচ মামলায় এবং শাহজাহান ওমর তিন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছালে নতুন করে তাদের উল্লেখিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।’
পারভেজ হত্যা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার কাঁচাবাজারের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন পারভেজ। এসময় আন্দোলনকারীদের ওপর হাতবোমা নিক্ষেপ ও বেপরোয়াভাবে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করা হয়। একটি গুলি তার মুখের বাম পাশে লেগে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে নিকটস্থ যাত্রাবাড়ীর সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক লিমিটেডে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর নিহতের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।
ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আদাবর থানার শ্যামলী ক্লাব মাঠসংলগ্ন এলাকায় ৩০ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক জোমাদ্দার গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ইসহাকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে ২০২৫ সালের ২ জুলাই আদাবর থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার শ্যামলীর একটি হাসপাতাল থেকে নুরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। আর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শাহজাহান ওমরকে।