জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় জামায়াতে ইসলামনীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের বক্তব্যের কিছু শব্দকে ‘অরুচিকর ও অশ্লীল’ বিবেচনা করে সেগুলো কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার অর্থবছরের বাজেটের অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি সমালোচনার প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে ‘চালুনি’ ও ‘সুঁচের’ কথোপকথনের একটি উপমা দেন। উপমায় ব্যবহৃত কিছু শব্দ নিয়ে আপত্তি তুলে স্পিকার তাকে সতর্ক করেন।
এসময় স্পিকার বলেন, ‘সংসদে বক্তব্য রাখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অরুচিকর, অশ্লীল কোনো কথা এই সংসদে উচ্চারিত হোক, এটা আমরা চাই না। আপনার বক্তব্যে কিছু অশ্লীল শব্দ রয়েছে। সেগুলো এক্সপাঞ্জ করা হল।’
সংসদীয় কার্যপ্রণালিতে ‘এক্সপাঞ্জ’ বলতে কার্যবিবরণী থেকে কোনো বক্তব্য বা শব্দ বাদ দেওয়াকে বোঝায়। সেগুলো সংসদের আনুষ্ঠানিক নথির অংশ হিসেবে গণ্য হয় না।
এর আগে বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি দিক নিয়ে আপত্তি তোলেন। তার দাবি, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বাড়বে এবং রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিত্যপণ্যের বাজার এমনিতেই অস্থির। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সংসারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে।’
সরকারের ঋণ পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে এ এমপি বলেন, ‘সরকারের মোট ঋণ ২১ লাখ কোটি টাকার বেশি, যা জিডিপির প্রায় ৩৯ থেকে ৪১ শতাংশের সমপরিমাণ। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে কিছু বরাদ্দ বাড়লেও, মাদ্রাসা সরকারিকরণের কোনো সুস্পষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রত্যেক জেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে। কিন্তু মাদ্রাসাগুলোকে সরকারিকরণের কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, তা এখনও আমাদের বোধগম্য হয়নি।’
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলে তিনি প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাদ্রাসা সরকারি করার প্রস্তাব দেন। নিজ এলাকা নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলার কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সেখানে সবজি ও ফল সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানান এমপি সাত্তার।