দেশের ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ ছাড়া যাত্রাপালা, কবিগান, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি ও মারফতি গানসহ গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আজ শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের বেড়াদী গ্রামে শ্মশান কালী মন্দিরের বার্ষিক পূজা-অর্চনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নিতাই রায় চৌধুরী।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। একইসঙ্গে মাদক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দেশের যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ও সৌন্দর্যমণ্ডিত দিক। যার যে রাজনৈতিক আদর্শ রয়েছে, সে অনুযায়ী মতপ্রকাশ ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে- এটাই গণতন্ত্রের মূল কথা। তবে মতভেদের কারণে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বিভাজন পরিহার করে জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করছে। মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দোকার নাসিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী সার্কেল) আজম খান, বোয়ালমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ, বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন, সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু প্রমুখ।