২০২৬ বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচ জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন সেলেসাও গড়ে তোলার কাজ শুরু করতে চান তিনি। তবে একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের জন্যও জাতীয় দলের দরজা খোলা থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বুধবার ইএসপিএন ব্রাজিল ও স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক এএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আনচেলত্তি।
চলতি বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয়। টুর্নামেন্ট শেষে ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার রিও ডি জেনিরোতে ফিরে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) জাতীয় দল বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে মূল আলোচনার বিষয় ছিল আগামী চার বছরের পরিকল্পনা ও দল পুনর্গঠন।
বিশ্বকাপে হতাশাজনক ফলাফলের বিষয়ে আনচেলত্তি বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না হওয়ায় সবাই হতাশ। তবে অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তার বিশ্বাস, ব্রাজিলে প্রতিভাবান ফুটবলারের কোনো ঘাটতি নেই এবং সঠিক পরিকল্পনা ও সুযোগ পেলে তাদের নিয়েই আবারও শক্তিশালী দল গড়া সম্ভব।
নতুন দল গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণ খেলোয়াড়দের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি নতুন সেলেসাও গড়ে তোলার কাজ শুরু করব। তবে এর অর্থ এই নয় যে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়া হবে। যাদের এখনও ব্রাজিলকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে, জাতীয় দলের দরজা তাদের জন্য খোলাই থাকবে।’
বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। তার অবসরের পর দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আনচেলত্তিও মনে করেন, ফুটবলের ইতিহাসে এক প্রজন্মের বিদায়ের পর আরেকটি প্রজন্মের উত্থানই স্বাভাবিক। সেই নতুন চক্রের সূচনা করতে চায় ব্রাজিল।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে ব্রাজিলের নতুন অধ্যায়। ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার টাউন্সভিল ও ব্রিসবেনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। এছাড়া অক্টোবরের শুরুতে ভারতের কলকাতায় আরও একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে ওই ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এরপর নভেম্বরে আরও দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে ব্রাজিলের। আগামী বছরের মাঝামাঝি শুরু হবে ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব। ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হবে কোপা আমেরিকা, যা ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত বছরের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির ওপর আস্থা রেখেছে সিবিএফ। ইতোমধ্যেই ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী চার বছরে তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে নতুন সেলেসাও গড়ে তোলাই হবে ইতালিয়ান এই কোচের প্রধান লক্ষ্য।