গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিয়েও নিয়মিত মামলা না নেওয়া এবং পুলিশের প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ ওমর ফারুক।
তিনি গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি)-এর কাছে পৃথক আবেদন জমা দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা গ্রহণ, মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩ জুলাই ২০২৬ ভোররাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে কাশিমপুরের বাঘাডা এলাকার বাসার তালা ভেঙে তার লাল রঙের ১২৫ সিসি TVS Rider মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলেও তখনও নাম্বার প্লেট সংযুক্ত করা হয়নি।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পরদিন তিনি কাশিমপুর মেট্রোপলিটন থানায় যোগাযোগ করলে সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি সন্দেহভাজন বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, মোটরসাইকেল চুরির যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন ধরনের তালা ভাঙার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন।
তবে তার অভিযোগ, এতসব আলামত উদ্ধারের পরও তার মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে না এবং এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো নিয়মিত মামলা গ্রহণ করা হয়নি।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও তিনি পাননি। ফলে একজন অভিযোগকারী হিসেবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
শুধু তাই নয়, অভিযানে যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারা ‘সন্ত্রাসী প্রকৃতির’ বলে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, তাদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলা বা হয়রানির আশঙ্কায় তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ পরিস্থিতিতে তিনি পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে নিয়মিত মামলা গ্রহণ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে মোটরসাইকেল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যেকোনো হামলা বা হয়রানি প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ বিষয়ে কাশিমপুর মেট্রোপলিটন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।