সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

বিমানের মিজানের পদোন্নতি, পরে সাময়িক বরখাস্ত

প্রতিবেদকের নাম

দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রশীদকে আবারও পদোন্নতি দেওয়ার পর তা স্থগিত করা হয়েছে। পদোন্নতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিমানজুড়ে সমালোচনা ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিজানুর রশীদকে সম্প্রতি পদোন্নতি দিয়ে পরিচালক, মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা নানা অভিযোগ সামনে আসার পর সিদ্ধান্তটি স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন সার্ভিস আইন, ১৯৭৯-এর ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগামী ২০ মে থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের জিএম বুশরা ইসলাম বলেন, সোমবার মিজানুর রশীদকে পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভ্যন্তরীণভাবে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি স্থগিতের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনাকাটায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হন মিজানুর রশীদ। যদিও বিভাগীয় তদন্তে তিনি অব্যাহতি পান, তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে অভিযোগের মধ্যেই গত ৪ মার্চ মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদ থেকে তাকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিনই আবার তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়েও উচ্চপদ হিসেবে বিবেচিত।

বিমানের ভেতরে অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ও বর্তমান কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার তদবিরেই মিজানুর রশীদ ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও পদোন্নতি পেয়ে আসছেন।

সূত্র জানায়, মিজানুর রশীদের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বিমানের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা এবং এক ভাই বিমানে চাকরি করতেন। বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার (টিএ-ডিএ) ভুয়া ভাউচার তৈরি করে প্রায় ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৮ সালে ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের পক্ষ থেকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সফটওয়্যার কেনা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার নথিপত্র চাওয়া হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা