মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে রাস্তা পাকাকরন কাজে বাধা দিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে কাজীপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৭ এস এলাকার ৮ কবর যাওয়ার রাস্তার কাজ করার সময় ভারতের নদীয়া জেলার গান্ধীনা বিএসএফ ক্যাম্পের তিনজন সদস্য এসে বাধা প্রদান করে।
এ সময় আশপাশে থেকে স্থানীয় বাংলাদেশী নাগরিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএসএফ সদস্যদের বাংলাদেশ ভূখণ্ড প্রবেশে পাল্টা হুমকী দিলে বিএসএফ স্থান ত্যাগ করে তারা নিজেদের সীমানা অভ্যন্তরে চলে যায়।
কাজীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম বলেন, কাজীপুর বিজিবি ক্যাম্প থেকে সীমান্তে ৮ কবর পর্যন্ত মাটির রাস্তায় যোগাযোগ, কৃষি পণ্য পরিবহনে ও জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হচ্ছিল। মেহেরপুর জেলা পরিষদের অর্থায়নে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হচ্ছে। সে সময় বিএসএফ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঢুকে সেই রাস্তা নির্মাণকাজে বাধা সৃস্টি করে। কাজ চলমান অবস্থায় বিএসএফের কয়েকজন সদস্যের বাধাদানের ঘটনায় সীমান্ত উত্তেজনাকে উসকে দিয়েছে বিএসএফ।
কাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, রাস্তাটি সীমান্ত এলাকায় হওয়ার কারণে যতবার রাস্তাটি এইচবিবি করণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, ততবারই অযাচিতভাবে বিএসএফ বাধা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাস্তাটি সীমান্তের শুন্য রেখা থেকে বাংলাদেশ অংশের অনেক ভিতরে। স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে ৮ মুক্তিযোদ্ধার এই কবরে জনগণ এবং প্রশাসন শ্রদ্ধা জানায় প্রতিবছর। তারপরও বিএসএফের এই আচরণ আন্তর্জাতিক সীমানা আইন পরিপন্থী।
এ বিষয়ে বিজিবির কাজীপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, বিএসএফ কাজে বাধা দিয়েছে বিষয়টি জানা নেই।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি (এসইউপি, পিএসসি, জি) বলেন, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোন স্থাপনা তৈরি করতে গেলে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের বসে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিধায় রাস্তা তৈরীর বিষয়টি সূরাহ করার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে পতাকা বৈঠকের জন্য আহ্বান জানানোর কার্যক্রম চলছে। তবে রাস্তা নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।