বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

আর্জেন্টিনার হয়ে আলো ছড়াতে পারেন যারা

প্রতিবেদকের নাম

ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপ এই দেশে আর্জেন্টিনা-আবেগের বড় ভিত্তি তৈরি করেছিল। তারপর মেসি সেই আবেগকে নতুন প্রজন্মের কাছে নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশে চলছে আর্জেন্টিনা উন্মাদনা।বুধবার সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

গত বিশ্বকাপে দীর্ঘ ৩৬ বছরের খরা কাটানোর পর আলবিসেলেস্তেরা এবার আরো পরিপক্ব এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল নিয়ে মাঠে নামছে। আর্জেন্টিনার প্রধান শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে তাদের আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের দুর্দান্ত কম্বিনেশনকে, যেখানে রয়েছেন একাধিক ম্যাচ উইনার।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে শুরু হওয়া ২০২৬ সালের ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আক্রমণভাগ জাদুকরী নেতৃত্ব আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের শক্তিতে বলীয়ান। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। আলবিসেলেস্তেদের এই বিভাগের মূল স্তম্ভরা আগামীকাল বুধবার সকাল ৭টায় শুরু হতে যাওয়া আলজেরিয়া ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেন।

লিওনেল মেসি: লিওনেল মেসি কেবল একজন ফুটবলার নন, দলের প্রধান চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণার নামও। বয়স বাড়লেও মাঠের নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত ফুটবল ভিশন এবং জাদুকরী পাসিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। তার অনন্য নেতৃত্ব এবং অসাধারণ ড্রিবলিং দক্ষতা আজও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক মহাআতঙ্ক এবং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য পরম আনন্দ।

হুলিয়ান আলভারেজ: হুলিয়ান আলভারেজ দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড প্রতিপক্ষের রক্ষণে অনবরত চাপ তৈরি করতে ও স্পেস খুঁজে নিতে ওস্তাদ। মাঠজুড়ে তার ক্লান্তিহীন দৌড় এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ভুল করতে বাধ্য করার ক্ষমতা দারুণ। ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত ক্লিনিক্যাল এই তরুণের উপস্থিতি যেকোনো দলের আক্রমণকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তোলে।

লাওতারো মার্তিনেজ: লাওতারো মার্তিনেজ বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং সুযোগ কাজে লাগাতে সিদ্ধহস্ত এক স্ট্রাইকার। ইন্টার মিলানের হয়ে ক্লাব ফুটবলে ফর্মের তুঙ্গে থাকা আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের এ ফুটবলার গোল করার অন্যতম প্রধান ভরসা। ‘ডি’ বক্সের ভেতর তার চমৎকার পজিশনাল সেন্স, ক্ষিপ্রতা ও পাওয়ারফুল শট প্রতিপক্ষের যেকোনো রক্ষণব্যুহ ভেঙে দিতে পারে। যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তাকে দলের এক নির্ভরযোগ্য অস্ত্রে পরিণত করেছে। মাঝমাঠে থাকছে সৃজনশীলতা আর তারুণ্যের এক্স ফ্যাক্টরের মিশেল। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠকে বলা হচ্ছে দলের মূল ইঞ্জিন।

মাঝমাঠে থাকছে সৃজনশীলতা আর তারুণ্যের এক্স-ফ্যাক্টরের মিশেল। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠকে বলা হচ্ছে দলের মূল ইঞ্জিন। মাঝমাঠে আলো ছড়াতে প্রস্তুত যারা-

থিয়াগো আলমাদা: থিয়াগো আলমাদা আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের এক দারুণ উদীয়মান কাণ্ডারি। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করা এবং আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ডিফেন্স-চেরা পাস দেওয়ায় তিনি দারুণ পারদর্শী। মাঠের পরিস্থিতি দ্রুত বোঝার অনন্য ক্ষমতার পাশাপাশি বক্সের বাইরে থেকে তার দূরপাল্লার জোরালো ও নিখুঁত শট দলের জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট। ফ্রি-কিক এবং সেট-পিসেও সমান কার্যকরী এই তরুণ মিডফিল্ডার যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে দলের জয় নিশ্চিত করতে পারেন।

নিকো পাজ: নিকো পাজ বর্তমান আর্জেন্টিনা ফুটবলের অন্যতম প্রমিজিং ও রোমাঞ্চকর এক তরুণ প্রতিভা। দূরদর্শী ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা এবং চমৎকার ড্রিবলিং দক্ষতার কারণে তাকে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মাঝমাঠ কিংবা উইং- যেকোনো পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার দারুণ ক্ষমতা রয়েছে তার। নিজের দিনে উইং বা হাফ স্পেস দিয়ে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে যেকোনো রক্ষণভাগকে একাই বোকা বানানোর অবিশ্বাস্য সক্ষমতা রাখেন এই তরুণ তুর্কি, যা তাকে দলের এক দারুণ এক্স ফ্যাক্টরে পরিণত করেছে।

শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়েই মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের দলটির তুলনায় এবারের স্কোয়াডে গভীরতা অনেক বেশি। মেসি একাই যেন পুরো দলের চাপ টেনে না নেন, সেজন্য আলভারেজ, মার্তিনেজ বা আলমাদাদের মতো ফর্মে থাকা তারকারা দারুণভাবে সহায়তা করবেন। একাধিক ম্যাচ-উইনার থাকায় স্কালোনি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ভিন্ন ভিন্ন রণকৌশল সাজাতে পারবেন।

টানা দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি বিশ্বকাপ জেতার পর আর্জেন্টিনার এ দলটির আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। তরুণদের গতি আর অভিজ্ঞদের বুদ্ধিমত্তার মিশেলে গড়া আর্জেন্টিনা যদি তাদের বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারে, তবে মার্কিন মুলুকে আবারও লিওনেল মেসির হাতেই বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা