শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর আবেগঘন পরিবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। জানাজা শেষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে সড়কে শোডাউন দেন।
এরপর মোশাররফ হোসেনকে নিজ বাড়ি মিরসরাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে দাফন করা হয়।
গতকাল বুধবার থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় জানাজায় অংশগ্রহণ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা লক্ষ করা যায়। মাঠে প্রবেশের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা পার হতে হয়েছে আগতদের। ফটকে স্থাপন করা হয় তল্লাশিচৌকি।
জানাজায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি। তবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত উপস্থিত ছিলেন।
মোশাররফ হোসেনের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা ডা. এ কে এম ফজলুল হক, জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।
চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। মিরসরাইয়ের সন্তান হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য কাজ করে গেছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে তার অবদানের জন্য মানুষ তাকে স্মরণ করবেন।’
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা চিরদিন মনে রাখতে হবে। তিনি আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন। সারাজীবন তার সঙ্গে রাজনীতি করেছি।’
সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে উনার সঙ্গে আমার স্মৃতি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি কথা শুনতেন। চট্টগ্রামের ইতিহাসে মোশাররফ হোসেন এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবে।’
মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি চলে গেছেন। উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের উন্নয়নে উনি কাজ করেছেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’
জানাজা শেষ হতেই মরদেহ নিয়ে রাখা হয় অ্যাম্বুলেন্সে। তখনই মাঠের চারপাশ থেকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও তাঁর অনুসারীরা অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে স্লোগান ধরেন।
তাদের কণ্ঠে ওঠে ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান। নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরে প্রিয় নেতার মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। পরে তারা স্লোগান ধরে জিইসি পর্যন্ত যান। এ সময় নগরীর বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।