এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন তার গাড়ির চালক ওবায়দুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার পল্লবী থানায় দায়ের করা এ মামলায় গাজী নজরুল ছাড়াও আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্য চার আসামি হলেন মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ, আমিনুর রহমান ও রাকিবুল হাসান।
ওবায়দুর রহমানের অভিযোগ, এমপির ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ প্রতিবাদ করায় এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে তাকে ‘মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা’ করেন আসামিরা।
আসামিদের মধ্যে আমিনুর রহমানকে মামলা হওয়ার পরপরই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আমিনুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই সঙ্গে এ মামলার তদন্ত করে আগামী ২৪ অগাস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ারে’ তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ি চালাতেন।
এজাহারে বলা হয়, আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেন।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি ‘চক্র’ নজরুল ইসলাম ও ওবায়দুরের ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গেল ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের ‘নির্দেশে’ অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়।
এজাহারে বলা হয়, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান ‘কৌশলে’ ওবায়দুরকে তাদের বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করার চেষ্টা করেন। তখন তার মা ও ছোট বোন এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
মামলায় বলা হয়, হামলার পর আহত অবস্থায় ওবায়দুরকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আসামিরা তাকে ‘যেখানে পাবে সেখানেই’ হত্যার হুমকি দিতে থাকে।
প্রসঙ্গত, নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় আজ বুধবার গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর আগে গত সোমবার রাতে এক তরুণীর সঙ্গে জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়। তার পক্ষে অনেকেই ভিডিওটিকে এআই দ্বারা নির্মিত দাবি করে। এমপি দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গত ১৭ জুন তাকে বিয়ে করার সময় তার প্রথম স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। প্রথম স্ত্রীও জানান, তিনি বিয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন। তরুণীর বাবাও এ দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন। তবে ওই তরুণীর একটি বায়োডাটায় দেখা যায়, গত ২২ জুন তাকে চাকরির সুপারিশ করেছেন গাজী নজরুল ইসলাম। চলতি বছর এসএসসি পাস করা ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত লেখা’।
এসব বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট কাজী বাকী বিল্লাহ জানান, গতকাল মঙ্গলবারই কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে। এমপি তাকে ১৭ জুন বিয়ের তারিখ দিতে বলেছিলেন।