২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা তারকাদের তালিকার উপরের দিকে রয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম স্বীকার করেছেন, ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে, মেসি বা রোনালদোর মতো দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন কি না তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে ক্লোসাকে ছুঁলেন এমবাপ্পে, সামনে শুধু মেসি।
গত রোববার এমবাপ্পে বলেছিলেন, ‘আমি আগেই জানতাম মেসি গোল করা অব্যাহত রাখবে। সে সবসময়ই তা করে। সে আমার সামনে আছে এবং আমি তার পেছনে আছি। আমি গোল করা অব্যাহত রাখব যাতে আমার জাতীয় দল যতদূর সম্ভব এগিয়ে যেতে পারে।’
সোমবার মাঠের লড়াইয়ে এমবাপ্পের সেই কথারই প্রতিফলন দেখা গেল। ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার হয়ে এদিন মাঠ মাতিয়েছেন এই দুই ফুটবল মহাতারকা।
আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানের জয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই আরেকটি ম্যাচে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। ইরাকের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। এমবাপ্পের এই নৈপুণ্য ফ্রান্সকে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছে দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের মিডফিল্ডার মানু কোনে এমবাপ্পের প্রশংসা করে বলেন, ‘কিলিয়ানের মতো একজন খেলোয়াড়কে দলে পাওয়াটা এক পরম সৌভাগ্য।
এদিন গোলের জন্য ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি এমবাপ্পেকে। ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই তিনি দলের প্রথম গোলটি করেন। বাঁ দিক দিয়ে বল নিয়ে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে মাইকেল অলিসের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। এটি ছিল এমবাপ্পের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে প্রথমার্ধে করা মাত্র দ্বিতীয় গোল। এর আগে তার করা ১৪টি বিশ্বকাপের গোলের মধ্যে ১৩টিই এসেছিল দ্বিতীয়ার্ধে, যার শেষটি এসেছিল ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে পেরুর বিপক্ষে প্রথমার্ধে।
ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে ইরাকের রক্ষণভাগের চরম ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। ইরাকের ডিফেন্ডার জাইদ তাহসিন গোলরক্ষক আহমেদ বাসিলের উদ্দেশ্যে দুর্বল ব্যাকপাস দিলে ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে বলটি কেড়ে নিয়ে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা এমবাপ্পের দিকে বাড়িয়ে দেন এবং এমবাপ্পে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান।
এই গোলের পর বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে মেসির চেয়ে মাত্র দুই গোল পিছিয়ে আছেন এমবাপ্পে। উদ্বোধনী ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে গোল করে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এমবাপ্পে বর্তমানে জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
সর্থকের এমন রেকর্ডে উচ্ছ্বসিত ডিফেন্ডার জুলস কুন্দে বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেবল হাসতে পারি এবং তাকে অভিনন্দন জানাতে পারি। আমি আশা করি সে আরও বেশি গোল করবে কারণ, সত্যি বলতে—এবং আমি জানি আমরা সবাই এমনটাই মনে করি—আমরা চাই সে সব রেকর্ড ভাঙুক।’
বিশ্বকাপের মাত্র দুই ম্যাচে ইতিমধ্যে চার গোল করে ফেলেছেন এমবাপ্পে। একক বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে জাস্ট ফন্টেইনের এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের (১৯৫৮ বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে) রেকর্ড স্পর্শ করতে এমবাপ্পের প্রয়োজন আর মাত্র ৯ গোল।