বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের আলোচনা তুঙ্গে, সোমবার আসতে পারে ঘোষণা

প্রতিবেদকের নাম

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামীকাল সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনও দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করেছেন। আজ রোববার ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য অবজারভারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

দ্য অবজারভার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার আগামীকাল সোমবার পদত্যাগ করবেন এবং তার বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করবেন। তবে একটি সরকারি সূত্র এ খবরের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছে, স্টারমার এখনো দেশ পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর চাপ কয়েক মাস ধরে বাড়ছিল। গত শুক্রবার তা তীব্র আকার ধারণ করে যখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম সংসদের একটি আসনে উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এই জয় তাকে লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করার আনুষ্ঠানিক সুযোগ করে দিয়েছে।

অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্টারমার তার স্ত্রীর সঙ্গে চেকার্সের গ্রামীণ বাসভবনে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন। লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা সোমবারের মধ্যে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বিবৃতির প্রত্যাশা করছেন।

তবে সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, স্টারমার তার কাজে মনোনিবেশ করছেন এবং এ বিষয়ে তার আগের বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে।

গত শুক্রবার স্টারমার বলেছেন, তিনি তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবেন এবং লেবার পার্টিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিভক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টিকে ভূমিধস বিজয় এনে দিলেও, একের পর এক কেলেঙ্কারি ও নীতিগত ইউ-টার্নের কারণে স্টারমার অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেক ভোটারের মনে ধারণা জন্মেছে যে, তিনি জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে পারছেন না।

যদি স্টারমার পদত্যাগ করেন বা ক্ষমতাচ্যুত হন, তাহলে মাত্র এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাবে— যা প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ পালাবদল। এটি জনসেবা উন্নয়ন ও অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় ধারাবাহিক সরকারগুলোর ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

রয়টার্সের হিসাব অনুসারে, স্টারমারের দলের ১০০ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা— যা হাউস অফ কমন্সে লেবারের মোট আসনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ— প্রকাশ্যে বলেছেন যে তারা চান তিনি পদত্যাগ করুন অথবা তার প্রস্থানের সময়সূচি নির্ধারণ করুন।

অবজারভার জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, দাতা ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর স্টারমার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে তার পদ আর টেকসই নয়।

এদিকে ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহামকে লেবার পার্টির অনেকে স্টারমারের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দলের মধ্যে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলার পর শুক্রবারের উপনির্বাচনে তিনি নাইজেল ফারাজের ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে দলের প্রার্থীকে সহজেই পরাজিত করেন।

বার্নহাম এখনও স্টারমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানাননি। তবে বিজয়ের পর দেওয়া ভাষণে তিনি দেশের জন্য ‘নতুন পথের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মিত্ররা স্টারমারকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও জানিয়েছেন, তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা