ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ঘোষণা করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষও কোম্পানিটির শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবে।
আজ বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পায়।
স্পেসএক্স রকেট তৈরি করে, স্টারলিংক নামে উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা দেয় এবং একই সঙ্গে মাস্কের বিতর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর মালিকও এটি।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে এই প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হতে পারে এবং আগামী মাস থেকেই ‘এসপিসিএক্স’ প্রতীকে লেনদেন শুরু হতে পারে।
স্পেসএক্সে নিজের মালিকানাধীন শেয়ারের কারণে এই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি মাস্ককে বিশ্বের প্রথম এক ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক বানাতে পারে। যদিও ইতোমধ্যেই তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
স্পেসএক্স নিজেদের মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। কোম্পানির অধিকাংশ শেয়ারের মালিক হওয়ায় মাস্কের অংশের মূল্য ছয়শ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
গত বছর বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার প্রধান মাস্ক, প্রথম ব্যক্তি হিসেবে পাঁচশ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়েছিলেন।
এর মানে, স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে এলে তার মোট সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই নথির মাধ্যমে স্পেসএক্সের আর্থিক অবস্থার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চিত্রও প্রকাশ পেয়েছে।
গত বছর ‘স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত কোম্পানিটি আয় করেছিল ১৮ দশমিক শূণ্য ৬ বিলিয়ন ডলার, তবে তাদের নিট লোকসান ছিল ৪ দশমিক শূণ্য ৯ বিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের বিক্রি ছিল ৪ দশমিক শূণ্য ৭ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু নিট লোকসান হয়েছে ৪ দশমিক শূণ্য ৩ বিলিয়ন ডলার।
তাদের হিসাব অনুযায়ী রকেট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিসহ মোট সম্পদের পরিমাণ ১০২ বিলিয়ন ডলার, তবে একই সঙ্গে কোম্পানিটির ঋণ রয়েছে ৬০ দশমিক শূণ্য ৫ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিট্রিন ভেঞ্চার পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা অংশীদার রুথ ফক্স-ব্লেডার বিবিসিকে বলেন, ‘এ ধরনের প্রকল্প শেয়ারবাজারে আসার সময়ও লোকসানে থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।’
তিনি আরও বলেন, এই তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা প্রত্যাশিত ছিল, তবে এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর।
তার ভাষায়, ‘স্পেসএক্স একটি বিশাল ও বিস্তৃত প্রকল্প, যার অসংখ্য সম্ভাবনা রয়েছে এবং যা ভবিষ্যতের দিকেই ইঙ্গিত করে।’
স্পেসএক্স জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলার কারণে তাদের সম্ভাব্য আইনি খরচ অর্ধ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
মাস্ক বলেছেন, তিনি এক্সএআইকে আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিলুপ্ত করে স্পেসএক্সের অধীনেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান।
স্পেসএক্সের মালিকানায় রয়েছে এক্স নামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যা আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল।