বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ (ডিওইএস) আজ শনিবার ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আছ-সাবের। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল আই. মোহাম্মদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রফিকুল আই. মোহাম্মদ বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, বরং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে, তাই পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের কোনো বিকল্প নেই। গাছ লাগানো, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটির কর্মসূচির শুরুতে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই জীবনযাপনের বার্তাসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
পরে ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জারুল ও আমলকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্যাম্পাসে সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আছ-সাবের পৃথিবীকে সবার অভিন্ন আবাসস্থল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।