মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ফিলিং স্টেশনে নিরাপত্তা-সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিতসহ ৮ দাবি

প্রতিবেদকের নাম

ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

অ্যাসোসিয়েশনের অন্য ৬টি দাবি হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবতার আলোকে ক্রেতা সাধারণকে সচেতন ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে, পেট্রোল পাম্পে ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় তেল নিতে ক্রেতাদের হুমড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, ডিপো থেকে ট্যাংকলরির চেম্বারের ধারণক্ষমতা (যেমন ৪,৫০০ লিটার) অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে হবে, না হলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা অযথা পেট্রোল পাম্পে আক্রমণ ও পেট্রোল পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দোষ চাপানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের ট্যাগ অফিসার নিয়োগকে তারা সাধুবাদ জানান।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একধরনের অস্থিরতা ও বিভীষিকাময় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আদেশ-নির্দেশ ও তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমরা নাভিশ্বাস অবস্থায় আছি। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প মালিকরা সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করে আসছেন। সারাদেশের পেট্রোল পাম্প মালিক ও তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ক্রেতাদের তেল সরবরাহ করে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। তারপরও অহেতুকভাবে সঠিক তথ্য না জেনে পেট্রোল পাম্পের ওপর আক্রমণ, দায়িত্বরত স্টাফদের নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই। আমরা সব সময়ই সরকারকে সহযোগিতা করে আসছি। সব দুর্যোগের সময় আমরা পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং বা সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘তেল ফুরিয়ে যাওয়ার’ যে আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে, তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে এবং কৃত্রিম সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে এবং রেশনিং ব্যবস্থা নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে দিতে হবে।’

সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, ‘সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে দেশে বর্তমানে তেলের যে মজুত রয়েছে, তা দিয়ে সংকট মোকাবিলা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা একটি সাময়িক সমস্যা, যা কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় যদি সবাই নিজের গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামেন, তাহলে সাধারণ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। একজনের অতিরিক্ত সংগ্রহের কারণে অন্যজন জরুরি প্রয়োজনেও এক লিটার তেল নাও পেতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে কেনার প্রবণতা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করা কিংবা পাম্পে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। কারণ ব্যক্তিগতভাবে তেল সংগ্রহ করলে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণে জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই অন্যের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ত্যাগের মানসিকতা বজায় রাখতে হবে। একজন মোটরসাইকেল চালক তার নির্ধারিত ২ লিটার তেলেই সন্তুষ্ট থাকলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পেছনের মানুষটিও অন্তত বাড়ি ফেরার তেলটুকু পাবেন। এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতাই বর্তমান সংকট উত্তরণের প্রধান হাতিয়ার।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে, তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি বলেন, ‘বরং যারা অবৈধভাবে মজুত করছে বা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিত্তিহীন খবরে কান দেওয়া যাবে না। পাম্পে দায়িত্বরত কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় না জড়িয়ে নির্ধারিত রেশনিং রসিদ সংগ্রহ করতে হবে এবং লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। সরকার যখন বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপে পড়ে তেলের দাম না বাড়িয়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে, তখন নাগরিক হিসেবে সরকারকে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব। সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট এনার্জি বা জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়ানোর যে দীর্ঘমেয়াদি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করছি।’

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন নাগরিকের পরিচয় দিতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা ও ধৈর্যই একটি সাময়িক সংকট দ্রুত নিরসনে সহায়ক হতে পারে। আতঙ্ক নয়, বরং নিয়ম মেনে চলাই হোক এ সময়ের অঙ্গীকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের পাম্পগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ ও দুর্বিষহ। এসব অঞ্চলের অনেক পাম্পেই চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হলেও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ ভোক্তারা সেখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছেন। তেলের দাবিতে পেট্রোল পাম্পে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।’

এদিন সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ, অর্থ সম্পাদক মিজান প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, আবু হিরণ, সদস্য সাজ্জাদুর রহমান ইমন, মিজানুর রহমান, মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা