বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দুটি আবাসিক হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতের এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল দুইটির শিক্ষার্থীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ডি-ব্লকের চার তলার ৪৪০ ও ৪৪১ নম্বর কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোর জানালার দুটি স্টিলের শিক কেটে কক্ষে প্রবেশ করে। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে কৃষিকন্যা হলের খ-ব্লকের ১৩ নম্বর কক্ষে সিলিং ভেঙে আরও একটি চুরির ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চোর সিলিংয়ের পথ দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, আইডি কার্ডসহ দুটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী কৃষিকণ্যা হলের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাত আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমি রিডিং রুম থেকে এসে দরজায় তালা খুলতে গিয়ে দেখি ভেতর থেকে ছিটকিনি আটকানো। অথচ তখন আমদের কেউ রুমে ছিলাম না। সেসময় জানালা দিয়ে চোরকে দেখতে পাই। আমাকে দেখা মাত্র চোরটি সিলিংয়ের পথ দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আমার চিৎকার শুনে আশপাশের সবাই ছুটে আসে। পরে আমরা রুমে ঢুকে দেখি, আমাদের প্রায় ৪ হাজার টাকা আর আইডি কার্ডসহ দুইটা ব্যাগ নিয়ে চোর পালিয়ে গিয়েছে।’
তিনি জানান, পুরো ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি। একটি তালাবদ্ধ রুমেও যদি এভাবে সিলিং ভেঙে চোর ঢুকে পড়ে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি, হলের ভেতর আমাদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উচ্চ রেজুলেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত এবং হল এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
কৃষিকন্যা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘হলের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী সংখ্যা অনেক কম। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আজকের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি পরিকল্পিত ঘটনা হতে পারে অথবা নেশাগ্রস্ত কেউ সুযোগ বুঝে এই কাজ করেছে বলে অনুমান করছি।’
এই ঘটনায় সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আজকের চুরির ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। উক্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রক্রিয়া উদঘাটনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কর্মীদের অবহেলা আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়টির নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা স্বাধীন রক্ষী থাকলেও, সার্বিক নজরদারির স্বার্থে সেন্ট্রাল সিকিউরিটি সেকশন থেকে আমরা সর্বদা তৎপর আছি। কৃষিকন্যা হলের চুরির ঘটনার পর পরই চিফ সিকিউরিটি অফিসারকে পাঠিয়ে একটি সম্ভাব্য প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং কারণসমূহ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, ‘আমরা হলগুলোর প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। হলের ভেতরের নিরাপত্তার বিষয়টাতে ঘাটতি আছে, যেটা প্রভোস্টের এখতিয়ারে পড়ে। সেখানে সিসি ক্যামেরারও বোধহয় কভারেজ নাই। সেই দিকগুলো আমাদের জোরদার করতে হবে। আমাদের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী হলের শান্তি-শৃঙ্খলার দায়িত্বে প্রক্টোরিয়াল বডি আছে, নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা সেকশন আছে, ফ্যাকাল্টিগুলোতে ডিন মহোদয় এবং হলগুলোতে প্রভোস্টদের দায়িত্ব আছে। এদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে কাজ করা দরকার।’