চমক দেখাল মিশর, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকরিম। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি অনেক সমর্থকের জন্যই অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে আগামী কয়েক দিনে স্কোয়াড থেকে আরেক জনকে বাদ দিতে হবে তাদের।
আবদেলকরিম এখনো স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে উন্নতির ধাপে আছেন। ফলে তাকে জাতীয় দলে এত দ্রুত সুযোগ দেওয়া হবে—এমন ধারণা অনেকেই করেননি। তবে মিশরের কোচ হোসাম হাসান মনে করছেন, তরুণ এই ফুটবলার ইতোমধ্যেই যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখিয়েছেন এবং বড় মঞ্চে সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।
চলতি বছরের শুরুতে তিনি স্পেনের ক্লাব বার্সায় যোগ দেন, যেখানে তিনি আল আহলি ক্লাব থেকে ধারে এসেছেন এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে চুক্তির সুযোগও রয়েছে। বার্সায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার টেকনিক, গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও গোল করার সক্ষমতা কোচদের নজর কাড়ে।
তার পারফরম্যান্সের কারণে এখন মিশর জাতীয় দলও তাকে দ্রুত বড় পর্যায়ে প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তিনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
মিশরের দলে অবশ্য এখনও অভিজ্ঞ তারকাদের আধিপত্য রয়েছে। যেমন মোহামেদ সালাহ এবং ওমর মারমুশ—তারা দলের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন। তবে আবদেলকরিমের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, তিনি টুর্নামেন্টে আক্রমণভাগে অতিরিক্ত বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। কোচিং স্টাফের বিশ্বাস, তার সৃজনশীলতা ও সাহসী খেলার ধরন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
মিশর জাতীয় দল ১৫ জুন তাদের গ্রুপ পর্ব শুরু করবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এরপর তারা মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও ইরানের।
যদি আবদেলকরিম মাঠে নামেন, তাহলে তিনি হবেন বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী মিশরীয় ফুটবলার, যা ২০১৮ সালের আগের রেকর্ড ভেঙে দেবে।
মিশরের বিশ্বকাপ প্রাথমিক দল
গোলরক্ষক: মোহাম্মদ আলা, মোহাম্মদ এল শেনাউই, মোস্তফা শোবির, এল মাহদি সোলিমান
রক্ষণভাগ: হোসাম আবদেলমাগিদ, মোহাম্মদ আবদেলমোনেম, তারেক আলা, আহমেদ ফাতুহ, করিম হাফেজ, মোহাম্মদ হানি, ইয়াসের ইব্রাহিম, রামি রাবিয়া
মিডফিল্ড: ইমাম আশুর, মারওয়ান আত্তিয়া, নাবিল ইমাদ, হামদি ফাতহি, হাইথাম হাসান, মোহান্নাদ লাশিন, মাহমুদ সাবের, মাহমুদ হাসান (ট্রেজেগুয়েট), মোস্তফা জিকো, আহমেদ সাঈদ (জিজো)।
ফরোয়ার্ড: আকতাই আব্দুল্লাহ, হামজা আবদুলকরিম, ইব্রাহিম আদেল, ওমর মারমুশ, মোহাম্মদ সালাহ।