দেশে বৃষ্টির প্রবণতা আপাতত কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে পরবর্তী ৮ থেকে ১০ দিনে বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এর বিপরীতে দিনের বেলায় রোদ ও গরমের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস বলছে, এ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি বেশিরভাগ এলাকায় ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো কোনো দিন সারাদেশে গড়ে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রোদ থাকতে পারে। কিছু এলাকায় দিনের প্রায় পুরো সময়ই রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তুলনামূলক বেশি গরম অনুভূত হতে পারে। এসব অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর ও নীলফামারীসহ আশপাশের এলাকায় গরমের তীব্রতা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাময়িকভাবে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
বৃষ্টির প্রবণতা সামগ্রিকভাবে কমে গেলেও একেবারে বৃষ্টিশূন্য থাকবে না দেশ। বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রামের তুলনায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা বেশি থাকবে।
১৩ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই চার বিভাগের বিভিন্ন জেলায় দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রোদ থাকতে পারে। এর মধ্যেই দুই থেকে চার দিন দুপুর, বিকেল কিংবা রাতে বিচ্ছিন্ন বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব বিভাগের অনেক এলাকায় টানা কয়েক দিন বৃষ্টির দেখা নাও মিলতে পারে।
অন্যদিকে খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও কম থাকবে। সেখানে রোদের তীব্রতাও তুলনামূলক বেশি হতে পারে। আগামী ৯ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এসব বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় গড়ে ৫ থেকে ৭ দিন বৃষ্টিহীন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হঠাৎ অল্প সময়ের জন্য বজ্রবৃষ্টি হলেও দিনের বড় একটি অংশজুড়ে রোদ ও ভ্যাপসা গরম বজায় থাকতে পারে।
বৃষ্টির প্রবণতা কম থাকার এই সময়টিকে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে বিডব্লিউওটি। বিশেষ করে যেসব কৃষকের ধান কাটার উপযোগী হয়েছে, তারা স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত ধান কাটার কাজ শেষ করতে পারেন।
সংস্থাটির মতে, মাসের শেষদিকে আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই বর্তমানের তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়াকে কৃষিকাজে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
দেশের বেশিরভাগ এলাকায় রোদ ও তুলনামূলক কম বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পর্যটকদের জন্যও সময়টি সুবিধাজনক হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, কুয়াকাটা, কক্সবাজার, সুন্দরবন ও হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ঘোরাঘুরির জন্য আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সাগরে থাকা বর্তমান লঘুচাপের প্রভাব শনিবার রাতের দিকে অনেকটাই কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছে বিডব্লিউওটি। তবে ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সাগরে নতুন করে লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমনটি হলে সমুদ্র আবারও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তাই সাগরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি ও সতর্কবার্তা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।