মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

হুথিদের ঠেকাতে ট্রাম্পের সামরিক সহায়তা চাইলেন সৌদি যুবরাজ

প্রতিবেদকের নাম

ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত দুই দফা ফোনালাপে তিনি এ সহায়তা চান বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র শুক্রবার জানিয়েছে।

তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলায় সম্মতি দেননি ট্রাম্প। সূত্রগুলো জানায়, ওয়াশিংটন রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জনা যায়।

হোয়াইট হাউস ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে ফোনালাপের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, লোহিত সাগরে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার সৌদি আরব সফর করেছেন। সেখানে তিনি সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। ট্রাম্পের কাছে সৌদি যুবরাজের সামরিক সহায়তা চাওয়ার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্য বেড়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে হুথিরা। শুক্রবার তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র জানিয়েছে।

ইরানের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এতে হরমুজ প্রণালির পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইরান-সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরবও তেল রপ্তানিতে লোহিত সাগরের পথের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের জন্য এই পথ এখন গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট।

রিয়াদ ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরু হয় জুলাইয়ের শুরুতে। সে সময় হুথিরা দাবি করে, সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের একটি বেসামরিক বিমান অবতরণ ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল। এরপর পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা যাচাই করছে বলে সংশ্লিষ্ট এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক অভিযানে সম্মতি দেয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এরই মধ্যে হাজারো মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা