প্রকৌশলী , কবি ও বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের গীতিকার হিসেবে সদ্য তালিকাভুক্ত মোঃ সাকীল খানের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তাঁর বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টের সুত্র ধরে প্রমাণ দাওয়া গেছে , অতীতে তিনি আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সে সময়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন।
তারা আরও দাবি করছেন, পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের গীতিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
এছাড়া তাঁর সহধর্মিণী ডা. বিলকিস লিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পুরোনো পোস্ট নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে।
সমালোচকদের ভাষ্য, ওই পোস্টগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাসূচক বক্তব্য রয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে আরও কিছু অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে যে, এই দম্পতি গোপনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ বা সমমনা সংগঠনের কিছু কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন।
প্রকৌশলী মোঃ সাকীল খান বর্তমানে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)-এ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

তিনি ২০১২ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ডেসকোতে যোগদান করেন এবং ২০১৯ সালে পদোন্নতি পেয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হন।
ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।তিনি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ (ডেসকো)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক, স্টেজ ফর ইয়্যুথ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, আমরা সবাই ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ও ট্রাস্টি সদস্য, অগ্রযাত্রায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক, আওয়ামী টেকনোলজি অ্যান্ড রোবোমেন্ট এবং বিএসএল এগ্রো বিডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া মানবিক ঢাকা সোসাইটি ও প্রাণের’৭১-সহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।
সব সংগঠনের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ বা বঙ্গবন্ধুর আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছিল।
এ কারণে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।