নওগাঁয় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষমান গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কমর্চারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। সেই সঙ্গে চুরি হওয়া নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নওগাঁ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলার ওই নথিগুলো হারিয়ে যায়। পরে গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার সিংবাচা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে এস এম আকাশ (২৬), খয়রাবাদ গ্রামের করিম সরদারের ছেলে পলাশ হোসেন। তিনি যুগ্ন জেলা ও দায়রা আদালতে-২-এর পিয়ন ও পলাশের ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং শহরের বকুল তলা এলাকার আমজাদের ছেলে সবুজ (৪০)। তিনি কোর্টের মুহুরি হিসেবে কাজ করতেন।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর ৯০৪/২০২২ নম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ওই মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে। সেই সাথে চুরি হওয়া নথিটি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে আদালতের এক কর্মচারীর নিকট ফোন করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আমাকে অবগত করে যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২ নওগাঁ হতে রায়ের জন্য অপেক্ষমান একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে বলে জানান। বিষয়টি জানার পর ডিবি পুলিশকে দ্রুত চোর শনাক্তসহ মামলার নথি উদ্ধারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মূল চোরকে শনাক্ত করে প্রথমে রাজশাহীর বাগমারায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার থেকে এস এম আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আকাশ তার বাড়ির আঙিনায় একটি খড়ের পালা (স্তুপ) থেকে নথিটা বের করে দেয়।’
এসপি বলেন, ‘পরবর্তীতে আকাশের দেওয়া তথ্যমতে নওগাঁ সদর ও বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে যুগ্ন জেলা ও দায়রা আদালতে-২ এর পিয়ন পলাশকে ও পলাশের ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং সর্বশেষ কোর্টের মুহুরি সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসামি এস এম আকাশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করে তিনজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন জড়িত থাকা আসামির কথা উল্লেখ করেন। আর এর পেছনে কি উদ্দেশ্যে আছে তা উদ্ঘাটন করার জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।’