প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই লিড কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার বদলে নিজেরাই এখন বিপর্যস্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে স্বাগতিকরা। এই অবস্থাতেই শেষ হয় মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন।
দিন শেষে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৭৯ রান তুলতে পেরেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আর টাইগারদের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। জাকের ও নাঈম দুজনই ১৮ রান করে অপরাজিত আছেন।
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাই বাজে হয় বাংলাদেশের। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই শামার জোসেফের লেগ স্টাম্পের ফুল লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম। আগের ইনিংসে ৭ রান করা এই ওপেনার এবার নিজের শূন্য এবং দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফেরেন।
এরপর শান্ত-সাদমান জুটিতে বাংলাদেশের লিড ৫০ পেরোয়। কিন্তু ইনিংসের ১১তম ওভারেই নতুন করে হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। তিন বলের ব্যবধানে আউট হলেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ও হৃদয়। ৩০ বলে ১৩ রান করে চেজের বলে বোল্ড হন সাদমান। আর হৃদয় এক বল ডিফেন্ড করার পর ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলার চেষ্টায় বড় শট খেলার চেষ্টার করেন। কিন্তু ব্যাট-বলে ঠিকঠাক না হওয়ায় জোসেফকে ক্যাচ তুলে দেন মিড-অনে। আগের ইনিংসে ৪২ রানের পর এবার করেন ০।
শান্ত ফেরার পর ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুল হকের কানকাশন বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন জাকের আলি অনিক। দলের খাতায় আর ১ রান যোগ হতেই মিরপুরে বৃষ্টি নামে। ফলে আগেভাগেই দেওয়া হয় চা বিরতি। এর আগে বাংলাদেশ ৩৪ রান নিতেই ৪ উইকেট হারায়।
চা বিরতির পর মাঠে নেমেই নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন লিটন কুমার দাস। জোমেল ওয়ারিকানের করা বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। ১০ বলে ৪ রান আসে এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে।
মাত্র ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। এসময় জাকের আলির সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা চালান মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। মিরাজকে ৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান ওয়ারিকান।
এরপর ব্যাট করতে ক্রিজে আসেন নাঈম হাসান। তাকে নিয়ে চাপ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন মুমিনুল হকের পরিবর্তে কনকাশন সাব হিসেবে ব্যাট করতে নামা জাকের আলি অনিক। তৃতীয় দিন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাট করে যান এই দুই ব্যাটার।
অন্যদিকে, ৪ উইকেটে ১৩৪ রানের পর আজ (শুক্রবার) তৃতীয় দিনে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথমে হাফসেঞ্চুরি করেন তেজনারায়ণ চন্দরপল। ১৮৪ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রান করার পর তাকে স্লিপে শান্ত’র ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এর আগে তিনি জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন। গ্রিভসও একবার লাইফ পেয়েছেন মুমিনুল সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ায়। পরে নাঈমের অফসুইংয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে তিনি ১০৩ বলে ২ চারে ৪৬ রানে ফিরেছেন।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শেষে বাংলাদেশ বেশিরভাগ ওভার করিয়েছে দুই অফস্পিনার দিয়ে। তারা ভাগাভাগি করে বাকি ৪ উইকেট তুলে নেন। অভিষিক্ত ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ নেমেই তিনটি চার মেরেছেন, তবে ১৫ রানেই তাকে ফিরতে হলো মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে। এরপর শামার জোসেফকে (৪) উইকেটকিপার লিটনের হাতে, জোমেল ওয়ারিকানকে (০) এলবিডব্লিউ এবং জেইডেন সিলসকে (০) মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন নাঈম হাসান।
বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ৫০ উইকেটের মাইলফলক পূর্ণ করা নাঈমের শিকার ৪ উইকেট। এ ছাড়াও মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম ২টি করে উইকেট শিকার করেন। হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম নেন ১টি করে।