জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সোহেল রানা হত্যাচেষ্টা মামলায় নওগাঁ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মো. ওমর ফারুক সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমতাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আজ শুনানিকালে সুমনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, ওমর ফারুক সুমন শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন ময়ূরভিলার তিন রাস্তা মোড় এলাকায় উপস্থিত থেকে নিরীহ আন্দোলনকারীদের উপর মারপিটসহ জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তার ক্যাডার ও দলীয় বাহিনী দিয়ে আন্দোলনকারীদের গুরুত্বর আহত করেন মর্মে তদন্তে প্রতীয়মান হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি জামিনে থাকলে এলাকায় পুনরায় সাধারণ জনগনের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত ঘটাতে পারে। এজন্য তাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন তিন রাস্তার মোড়ে ময়ূর ভিলার সামনে মিছিলে অংশ নেন সোহেল রানা। শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। তাদের ছোঁড়া গুলিতে আহত হন সোহেল রানা। এরপর তিনি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১১ জুন রাজধানীর মোহাম্মদ থানায় বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ও ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২২২ জনকে আসামি করা হয়। মামলার উল্লেখযোগ্য অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, ডা. দিপু মনি, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, অভিনেত্রী শমী কায়সার, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর রাজধানী থেকে ওমর ফারুক সুমন গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।