জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, একটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি অনেক চিকিৎসক ও নার্সকে সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত হতে দেখেননি। নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেও যাঁরা নির্দেশনা মানবেন না, তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করার অনুরোধ জানান তিনি।
আজ রোববার সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নাটোর জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ দুলু আরও বলেন, ‘নাটোর জেনারেল হাসপাতালটি সরকারিভাবে ১০০ শয্যার অনুমোদনপ্রাপ্ত হলেও বর্তমানে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু জনবল, ওষুধ ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে ১০০ শয্যার হিসাবেই। হাসপাতালে এসে দেখেছেন, প্রায় ৯০০ রোগী ভর্তি রয়েছেন। অথচ তাঁদের মধ্যে মাত্র ১০০ জনের জন্য খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক রোগী খাবারও পান না, যা দুঃখজনক। ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে ৯০০ রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া হাসপাতালের বাথরুমগুলোও অপরিষ্কার। সেগুলো সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’
সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, ‘জনবলসংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে। চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতালের হিসাবরক্ষক শামসুন আরা বলেন, ‘২০২৩ সালে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল রয়েছে ১০০ শয্যার হাসপাতালের সমপরিমাণ। প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী ভর্তি থাকেন। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ রোগী চিকিৎসা নেন। ফলে বরাদ্দ করা অর্থ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে হাসপাতালটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
এ সময় সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান, আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমানসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।