মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট ভ্রমণ বিশৃঙ্খলার ফলে চলতি বছরের বিশ্বকাপে জায়গা নির্ধারণী আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে ইরাকের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মনতেরে শহরে বলিভিয়া ও সুরিনামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে খেলতে নামার কথা ইরাকের। এই ম্যাচের জয়ী দলই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো দলকে মেক্সিকোতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ইরাক শিবিরে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই ইরাকের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এর জবাবে তেহরান থেকে ইসরায়েলের দিকে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
বুধবার এক বিবৃতিতে ইরাক জাতীয় দল জানিয়েছে, দলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এবং এশিয়ার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্পূর্ণ অবগত রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আকাশসীমা বন্ধ থাকায় দলের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বের হতে পারছেন না। পাশাপাশি বিভিন্ন দূতাবাস বন্ধ থাকায় কয়েকজন খেলোয়াড়, কোচিং ও চিকিৎসক দলের সদস্যরা মেক্সিকোতে প্রবেশের ভিসা সংগ্রহ করতে পারছেন না।
তারা আরও জানায়, পরিস্থিতি নিয়ে তারা নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ও এশীয় ফুটবল সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সংস্থাগুলোও বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এর আগে মাত্র একবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ইরাক। ১৯৮৬ সালে সেই আসরে তারা গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। এবার প্লে-অফ জিততে পারলে এশিয়া থেকে নবম দল হিসেবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল র্যাঙ্কিংয়ে ইরাকের অবস্থান ৫৮তম এবং এশিয়ার মধ্যে সপ্তম।
এ পর্যন্ত একবার এশিয়া কাপ এবং সাতবার আরব কাপ জিতেছে ইরাক।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে জায়গা নির্ধারণী আরেকটি প্লে-অফে অংশ নিতে এ মাসের শেষদিকে গুয়াদালাহারা শহরে যাবে নিউ ক্যালেডোনিয়া, জ্যামাইকা ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।
এদিকে বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করা ইরানও এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের হামলার কারণে তেহরান এখনও চাপের মধ্যে থাকায় তাদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আগামী বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের গ্রুপের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা। তবে সংঘাত অব্যাহত থাকলে টুর্নামেন্টের আয়োজন ও ইরানের অংশগ্রহণ—দুই বিষয়ই অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন মেক্সিকোতে। পরদিন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে ইরান। দলটির সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে হওয়ার কথা রয়েছে।