ট্রাক থেকে ১ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি মিয়া বাবুল এবং মো. মিঠুকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
জানা গেছে, ভোলা-বরিশাল মহাসড়কে মাছের পোনাবাহী গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি, গাড়ি ভাঙচুর এবং চালককে মারধরের অভিযোগ উঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় তলব করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরপরই শাখার সহসভাপতি মিয়া বাবুল এবং মো. মিঠুকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিয়া বাবুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ভোলা-বরিশাল মহাসড়কে পোনাবাহী গাড়ি আটকে চাঁদাবাজি করা হয়। এই চক্রে সহ-সভাপতি মো. মিঠু, সহ-সভাপতি আকিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হোসেন স্বজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হায়দার মুন্সি, শাহরিয়ারসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত। তবে সহসভাপতি মিয়া বাবুল এবং মো. মিঠুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় তাদেরকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেয় এবং বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১৯ মে ভোর ৪টার দিকে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা রেনু পোনা বহনকারী একটি গাড়ি আটকে চাঁদা আদায় করা হয়। গাড়িটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলারোড এলাকায় রেখে চালক ও মালিককে তুলে নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের ভাড়া বাসায়। সেখানে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ সময় চালক ও মালিককে মারধরও করা হয়।