শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাক্ষাৎ শুক্রবার ইলেক্ট্রিক টোল কালেকশনের সিস্টেম চালুর লক্ষ্যে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত মনপুরায় কোস্টগার্ড ও মৎস্য অফিসের যৌথ অভিযান ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪ ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ, সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী ডিএসসিসি এলাকায় ৬ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল চীনের সিনহুয়া ও চীনা মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে ২ চুক্তিসহ ১৩ সমঝোতা স্মারক সই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে ‘পুঁজিবাজার পর্যালোচনা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে বাজেটের ওপর সেমিনার
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

অবকাঠামো তৈরির চেয়ে আগে কাজ শুরুর দৃষ্টিভঙ্গি সরকারের: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও কার্যকর জনবল, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হয়েছে। বর্তমান সরকার অবকাঠামো তৈরির এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে আগে কাজ শুরু, পরে অবকাঠামো তৈরির নীতি গ্রহণ করেছে। প্রয়োজনে ভাড়া বাসায় হলেও কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ হিউম্যান রিসার্চ অর্গানাইজেশন (এফবিএইচআরও) ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এখন সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। এ সংক্রান্ত সব ধরনের প্রস্তাব বা ইনপুট সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।আলাদা মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় গঠনের বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।

বাজেট প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি সরকারের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন।এবারের বাজেটে সেই প্রতিফলন স্পষ্টভাবে রয়েছে।

আগামী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ, স্বাস্থ্যকে দ্বিতীয় এবং কর্মসংস্থানকে তৃতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে বলেন স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা ব্যয় করা যায় না। কিন্তু ২০ বছর ধরে একই কথা শুনে গেলে চলবে না। কোথায় সমস্যা, কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না—তা চিহ্নিত করে সমাধান করাই সরকারের লক্ষ্য।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে কর্মসূচিভিত্তিক ক্লাস্টার আকারে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার (টিভিইটি) মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সনদ ও অ্যাক্রেডিটেশন ছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষা কেবল কারিগরি দক্ষতা অর্জনের বিষয় নয়, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও আলোকিত মানুষ তৈরিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি।

জোনায়েদ সাকি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যও স্বল্পমেয়াদি ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো হবে, যাতে তারা দ্রুত দেশি ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। প্রযুক্তির প্রসারের ফলে ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটালভিত্তিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে হলে দক্ষ মানবসম্পদই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বাড়লেও দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়ে গেছে। সরকারি উদ্যোগে গঠিত স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। অধিকাংশ শ্রমিক অদক্ষ হিসেবে বিদেশে যাওয়ায় রেমিট্যান্স বাড়ছে না। বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ‘স্কিল ম্যাপিং’ও প্রশিক্ষণ জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি পৃথক মানবসম্পদ (এইচআরডি) মন্ত্রণালয় গঠন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্যাক্স চালু এবং বাধ্যতামূলক এইচআর সার্টিফিকেশনের প্রস্তাব দেন। মানবসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দক্ষতা উন্নয়নকেই তিনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

ব্যবসায়ী নেতা আবুল কাশেম হায়দার বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ভগ্নদশার কারণে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্কুল ছেড়ে আশেপাশের কওমি মাদ্রাসা বা কিন্ডারগার্টেনে চলে যাচ্ছে। এর ফলে বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স, লিজিং কোম্পানি, স্কুল বা হাসপাতাল চালালে মুনাফা নিতে পারি, কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পারি না, কেন? আইনের এ সম্পর্কিত ধারাটি সংশোধন করলে মালিকরা আর চুরি-চামারি করবে না। আপনারা অবাক হবেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জমি কেনা বা ক্যালেন্ডার ছাপানোর খরচে অতিরিক্ত অর্থ দেখিয়ে টাকা সরানো হয়। শিক্ষার নামে মানবসম্পদ সৃষ্টি না করে শ্রেণিবৈষম্য ও অনৈতিক জাতি তৈরি করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি এই মৌলিক সমস্যা সমাধানের তাগিদ দেন।’

আলোচনায় সভাপতিত্বের বক্তব্যে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও এফবিএইচআরওয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. ফরিদ এ. সোবহান বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় থাকলেও মানবসম্পদ উন্নয়নে চরম অবহেলা করা হচ্ছে। আমাদের দক্ষতাসম্পন্ন ও আলোকিত মানুষ তৈরি হচ্ছে না। যারা রক্ষক, তারাই ভক্ষক হয়ে ব্যাংক থেকে টাকা চুরি করছে। আমাদের এমন দক্ষ ও আলোকিত জনবল দরকার, যাদের টাকা দিয়ে কেনা যায় না। এসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার অভাবের কথা তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এফবিএইচআরও’র সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর মঈনউদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন মাইজবস-এর সিইও ও এফবিএইচআরও-এর পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সবুজ এবং সহ-আহ্বায়ক ছিলেন এফবিএইচআরও-এর পরিচালক ও সিএসডি অ্যাকাডেমির সিইও এম. শাফাক হোসেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা