শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাক্ষাৎ শুক্রবার ইলেক্ট্রিক টোল কালেকশনের সিস্টেম চালুর লক্ষ্যে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত মনপুরায় কোস্টগার্ড ও মৎস্য অফিসের যৌথ অভিযান ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪ ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ, সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী ডিএসসিসি এলাকায় ৬ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল চীনের সিনহুয়া ও চীনা মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে ২ চুক্তিসহ ১৩ সমঝোতা স্মারক সই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে ‘পুঁজিবাজার পর্যালোচনা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে বাজেটের ওপর সেমিনার
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

শিবির নেতাকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে হট্টগোল, রুলিং দিলেন স্পিকার

প্রতিবেদকের নাম

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের এক নিখোঁজ নেতাকে উদ্ধার এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের মামলা নিয়ে বক্তব্যের সূচনা হয়।

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্পিকার রুলিং দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১১ জুন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। তবে পুলিশি অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এক নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার ওষুধ খাওয়ান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, গত ১২ জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ১১ জুন রাতে বিয়ের পিঁড়িতে না বসার জন্য জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন। পরে পুলিশ তাকে লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে। ভিকটিম নারী বাদী হয়ে জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এবং ইতোমধ্যে দুজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে অনেকেই ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ি করতে চেয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার বলেই আমি এটি মহান সংসদে উত্থাপন করলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার পর সম্পূরক প্রশ্ন করার নিয়ম না থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের বলেন, একটি অনিষ্পত্তি হওয়া ও বিতর্কিত বিষয়কে পার্লামেন্টে এভাবে আনা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। মনে হচ্ছে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি দলকে কনডেম (নিন্দা) করার জন্য ইনটেনশনালি (উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে) এটা প্লেস করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিসান এখন কোথায় আছে? কুমিল্লার পুলিশ জিসান বা ভিকটিমের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলতে দিচ্ছে না কেন? এখানে কোনো যড়যন্ত্র তৈরি করা হচ্ছে কি না?

বিরোধীদলীয় উপনেতার এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। উভয় পক্ষের সদস্যরা দাঁড়িয়ে চিৎকার ও হট্টগোল করতে থাকলে সংসদ কক্ষে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার বারবার সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ আসনে বসার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কোনো প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা যেহেতু দাঁড়িয়েছেন, তাকে বিশেষ বিবেচনায় সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে বা অসংসদীয় কোনো ভাষা যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে থেকে থাকে, তবে সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে এক্সপাঞ্জ (সংসদীয় রেকর্ড থেকে বাদ) করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্পিকারের এই রুলিং এবং কঠোর অবস্থানের পর সংসদ কক্ষ শান্ত হয়। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলের উপনেতাসহ সব সদস্য আসনে বসলে স্পিকার পরবর্তী কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা