তরুণ স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদদের উদ্ভাবনী চিন্তায় পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু-সংবেদনশীল ও টেকসই ঢাকার নতুন রূপকল্প উঠে এসেছে ‘কার্বন কনশাস আরবান ডিজাইন আইডিয়া কম্পিটিশন-২০২৬’-এর মাধ্যমে। আজ বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিএমজেড) অর্থায়নে ইউএনওপিএস, ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি), ইউএন-হ্যাবিট্যাট ও রাজউক যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এটি ‘বাংলাদেশে টেকসই উপকরণের মাধ্যমে বিল্ট এনভায়রনমেন্টের রূপান্তর’ প্রকল্পের অংশ।
আয়োজকরা জানান, টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করাই ছিল এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জলবায়ু-সচেতন নকশার মাধ্যমে গণপরিসরকে নতুনভাবে কল্পনা করে নানা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবনাগুলোতে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্বল্প-কার্বন উপকরণ ব্যবহার, পানি-সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিসর গড়ে তোলার বিষয় গুরুত্ব পায়।
স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, প্রকৌশল ও টেকসই উন্নয়ন খাতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি প্রস্তাব মূল্যায়ন করে। বিচারকদের মতে, অংশগ্রহণকারী দলগুলো সৃজনশীলতা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে স্বাস্থ্যকর, জনবান্ধব ও স্থিতিশীল নগর পরিবেশ গঠনের বাস্তবসম্মত ধারণা তুলে ধরেছে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছে— চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) টিম ‘বার্ন/ব্রেথ’। তাদের ‘দ্য রিসিডিং মেমব্রেন’ শীর্ষক প্রস্তাবনায় একটি অব্যবহৃত জলাশয়কে পরিবেশগতভাবে পুনরুদ্ধার করে সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিসরে রূপান্তরের ধারণা তুলে ধরা হয়। একই প্রকল্প ‘এক্সিলেন্স ইন প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড’ও অর্জন করেছে।
দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে— চুয়েটের টিম ‘ইউনিট ফাইভ’-এর ‘স্যাচুরেট: অ্যান আরবানস্কেপ দ্যাট রিটার্নস ওয়াটার টু আর্থ’ এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) টিম ‘ওয়েস্ট লাইন’-এর ‘মেমোরিজ অব বেঙ্গল: অ্যান ইকোলজি অব বিলংগিং ইন দ্য আরবান ফ্যাব্রিক’ শীর্ষক প্রস্তাবনা।
এ ছাড়া বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির টিম ‘ভ্যানগার্ড আরবানিস্টস’, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ‘ছায়া’ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ‘অরণ্যক’। বিজয়ী দলগুলোর জন্য মোট ১০ লাখ টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে।বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ও ইউএনওপিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জমা পড়া প্রস্তাবগুলোর উচ্চমানের প্রশংসা করেন। তারা টেকসই নগর উন্নয়ন ও জলবায়ু-সহনশীল শহর গঠনে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।