লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা গেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আশংকাজনক অবস্থায় থাকা সবাই একে একে মারা যান।
নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ছাড়া গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারও মারা গেছেন। অন্তর নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
এদিকে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইট-পাটকেলে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহীনুরদের বাড়ি কুমিল্লায় জেলায়। প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে থাকা রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন।
আজ সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত অন্তরকে গণপিটুনি দেয়।
অন্যদিকে, আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণ করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মেজো মেয়ে ইকরাও বিকেলে মারা যায়।
ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তরকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে আশঙ্কা অবস্থায় সদর হাসপাতাল নিলে সেও মারা যায়৷ এদিকে ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় উত্তেজিত জনতা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও ৩ বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় সেও (সিফাত) কিছুই জানতো না। ঘটনাটি জানার পর থেকে সেও আতঙ্কগ্রস্ত। সে কারও সাথে কথা বলার অবস্থাতে নেই।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে সেও মারা যায়। এ ছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সদর হাসপাতালে সেও মারা গেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইট-পাটকেল ছুঁড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হন।’
বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের বরাতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে বাসা ভাড়া থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে সে বাসা ছেড়ে চলে যায়। হয়তো পূর্বপরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর সে ঘটনাটি ঘটায়। রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চায়ন। তখন অন্তর বলেন, তিনি পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছেন। রাণী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেয়। তিনি পদক্ষেপটি না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদ্ঘাটন করাই সম্ভব হতো না। এরপরও ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তবে কী কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ।