বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নানা বাড়িতে ঘুরতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ২৭ দিনে এলো আড়াই বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স মাত্র ১২৫ টাকায় তদবির ছাড়া চাকরি পাওয়া গত ২০ বছরের ইতিহাসে বিরল: ভূমি প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর জুলাই পদযাত্রায় হামলা, নাসীরুদ্দীন-সারজিস আহত মানচিত্রে নির্ভুলতা, উন্নয়নে গতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন শক্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের পা বিচ্ছিন্ন ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কারও আধিপত্য মেনে নেব না: নাহিদ ইসলাম হামে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯০৪ সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় ইজিবাইক উল্টে শিশু নিহত
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নেব: অর্থমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে বিশেষ করে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাত এবং রপ্তানি ও প্রবাস আয়ে অগ্রগতি সাধন এবং দেশের মানুষের উৎপাদনশীল সক্ষমতার ওপর ভর করে আমরা অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নেব।’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মহান জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বাজেট নিয়ে আলোচনা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতের মূল ফোকাস ছিল মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণ, বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং অর্থনীতির সামগ্রিক পুনরুদ্ধার বিষয়ে। এসব প্রশ্ন স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক। কারণ জনগণ জানতে চায়- বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করে আমরা কীভাবে অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবো। এখন আমি এ লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য আমাদের গৃহীত কৌশলসমূহ তুলে ধরছি।’

তিনি বলেন, এই বাজেট কেবল সরকারের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি নয়; এটি জনজীবনে স্বস্তি আনা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কাঠামোগত সংস্কার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, উত্তরাধিকার হিসেবে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেলেও বর্তমান সরকারের ৩আর (রিকভারি, রেস্টোরেশন, রিকন্সট্রাকশন) কৌশলের মাধ্যমে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অনেকের সংশয়ের জবাব দেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে আমরা কেবল অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়, সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৬০টি পণ্যের উৎসে কর হ্রাস এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করার মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।’

প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধি কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি আস্থার প্রতিফলন। আইসিটি, কৃষি ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে অর্থনীতির মূলধারায় এনে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।’

রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা করের হার বাড়িয়ে নয়, বরং করের ভিত্তি বাড়িয়ে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চাই। প্রথমবারের মতো এনবিআর ৪ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে আমরা ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট প্রদানের সুযোগ দিচ্ছি, তবে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে।’

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় ৭২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার অপ্রয়োজনে ঋণ নিয়ে দেশের ঋণধারণ সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বর্তমানে মোট ঋণের পরিমাণ ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা জিডিপির ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এই ঋণের সুদ আমাদের সময়মতো পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

এই সংকট কাটাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়ে দিচ্ছি। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

পাচার করা অর্থ ফেরানোর বিষয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। ১৩টি দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্স রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে এবং মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।’

পাঁচটি শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ব্যক্তিগত আমানতকারীরা তাদের হিসাব থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক উত্তোলন করতে পারবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত ও হজ যাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড় থাকবে।’ এছাড়া ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজলিউশন আইন, ২০২৬’-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা