ব্রাজিলের বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা নায়কদের একজন তিনি। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছিলেন পঞ্চম শিরোপা। এরপর থেকেই শিরোপা খরায় ভুগছে দলটি।
ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক এল ইকুইপ–কে সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান ব্রাজিল দল নিয়ে কথা বলেছেন এই কিংবদন্তি।
সাক্ষাৎকারের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, একসময় বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল ছিল একক আধিপত্যের প্রতীক। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটি নিয়ে কথা বলছি। এখন পুরো বিশ্বজুড়েই দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় এবং শক্তিশালী দল রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল হয়তো তার ‘একক ফেবারিট’ তকমাটি হারিয়েছে, কিন্তু এখনও তারা ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবেই বিবেচিত হয়।
তবুও ব্রাজিলকে ঘিরে প্রত্যাশা যে কখনো কমে না, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘চিরন্তন ফেবারিট হিসেবে ব্রাজিলের ইতিহাস এবং আমাদের সংস্কৃতিতে ফুটবলের শিকড় এতটাই গভীরে যে, দলটির প্রতি প্রত্যাশা সবসময়ই আকাশচুম্বী থাকে।’
রোনালদো নাজারিওর সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল নেইমারকে ঘিরে। সাম্প্রতিক সময়ে চোট, সমালোচনা এবং নানা বিতর্কের মধ্যে থাকা নেইমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
উত্তরসূরী নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে রোনালদো বলেন, চলমান বিশ্বকাপটি নেইমারের জন্য সমালোচকদের জবাব দেওয়ার আদর্শ মঞ্চ, ‘যারা তাকে বিশ্বাস করেনি, তাদের সবার মুখ বন্ধ করে দেওয়ার একটা দারুণ সুযোগ রয়েছে নেইমারের সামনে।’
নেইমারের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়েরও মিল খুঁজে পান তিনি। ২০০২ বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘ সময় হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে ছিলেন রোনালদো। অনেকেই ভেবেছিলেন, তার সেরা সময় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সব সংশয় দূর করে সেই বিশ্বকাপে ৮ গোল করে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতান তিনি। সেই স্মৃতি টেনেই রোনালদো বলেন, ‘২০০২ সালে আমিও এমন একটা প্রত্যাবর্তন পর্বের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম, তাই আমি পুরোপুরি নেইমারের পক্ষে আছি।’
বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ আজ জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ম্যাচটিকে ঘিরে সেলেসাওদের লক্ষ্য থাকবে হেক্সা মিশনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। আর নেইমার শুরু থেকে মাঠে নামলে, হয়তো সেটিই হবে সমালোচকদের জবাব দেওয়ার পথে তার নতুন অধ্যায়ের সূচনা।