সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার, মেয়াদ পাঁচ বছর; বুয়েটের মানদণ্ড পূরণ না করলে সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর: সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন বিধিমালা জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ না করলে কোনো ই-রিকশা সড়কে চলতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।
কোন সড়কে চলবে, কত গতি
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশাকে সড়কের বাম লেন দিয়ে চলাচল করতে হবে। তবে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে এসব যান চলাচল করতে পারবে না।
সাধারণ সড়কে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ
ই-রিকশার ধরন ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।
নিবন্ধন পেতে যেসব শর্ত
ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। নির্ধারিত আবেদন ফরমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিতে হবে।
আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যানবাহনের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হবে। সব শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কত
বিধিমালায় যাত্রী ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশাকে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নির্ধারিত নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। এগুলো যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।
নিবন্ধন ছাড়া চলাচল নয়, আয়ুষ্কাল ১২ বছর
ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত ফি দিয়ে নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধন গ্রহণ বা নবায়ন ছাড়া সড়কে ই-রিকশা চালানো যাবে না।
বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নিবন্ধন পেতে বুয়েটের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নকশা পরিবর্তন করতে হবে। প্রতিটি যানবাহনে স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো নিষিদ্ধ।
চার্জিংয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা
ই-রিকশার ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে চার্জ দিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার বিধানও রয়েছে।
নিয়ম ভাঙলে দণ্ডনীয় অপরাধ
নতুন বিধিমালায় নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা যানবাহনের কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ সড়কে চলাচলকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে যান চালানো ও দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে সঙ্গে সঙ্গে যান থামাতে হবে।
নতুন বিধিমালার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, কারিগরি নিরাপত্তা, চলাচল ও চালকদের দায়িত্বের বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করা হলো।