সিলেটে চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে অভিযানে নেমে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও করা হয়েছে।
চায়ের দোকানে পরীক্ষার খাতা দেখা হচ্ছে, এমন খবরে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকানে অভিযান চালান শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। এসময় প্রায় এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেন তিনি। পরে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষককে তিনি সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানায় নিয়ে যান তিনি।
অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
খাতা জব্দের সময় অভিযুক্ত শিক্ষক দাবি করেন, ‘তাড়াহুড়ো থাকায় বন্ধুদের নিয়ে খাতা না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলেন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু শনিবারই নয়, আগের রাতেও একই স্থানে কয়েকজন মিলে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ করছিলেন। পরীক্ষকের বাইরে অন্যদের হাতেও খাতা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রভাষক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের হেফাজতে আছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা চলমান।
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন জানান, চায়ের দোকানে বসে পরীক্ষকের উত্তরপত্র মূল্যায়নের তথ্য পেয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত পরীক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এমন অপ্রত্যাশিত ও দায়িত্বহীন কার্যকলাপে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার পর থানায় জিডি হয়েছে। শিক্ষাবোর্ডও অধিকতর তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’