জনগণ ভোটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপিকে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
আজ শুক্রবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য দিন। যে ফলাফল দেখছি, তাতে আমরা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের তথ্য পাচ্ছি। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছর জনগণ আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণই বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। এবার যা-ই হয়েছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আরও ভালো ফলাফল করবে।’
এই বিজয় শুধু সংখ্যাগত সাফল্য নয় উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’ জনগণ নীতিভিত্তিক সরকার প্রত্যাশা করছে এবং বিএনপি সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আগের অনেক নির্বাচনে প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও এবারের নির্বাচন তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ হয়েছে।’ তবে দীর্ঘদিন ভোট না দেওয়ার সংস্কৃতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিএনপির নির্বাচনী প্রত্যাশা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এবং প্রত্যেক প্রার্থীই জয়ের আশায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।’ ভবিষ্যতে নির্বাচনী ফল আরো ভালো হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।’
জামায়াতের ভোট জালিয়াতির অভিযোগ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তাদের মনে কষ্টে আছে, তারা বলতেই পারে। তবে কেউ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তা প্রমাণের দায়িত্বও তাদের ওপরই বর্তায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি সত্যিই সেরকম কিছু ঘটে থাকে, তা প্রমাণ করতে পারলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের বিরুদ্ধে তো তারা অভিযোগ করে নাই।’