দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার এক তরুণী তার বিবাহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের হুমকি, অপহরণের চেষ্টা, শারীরিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় তিনি ও তাঁর স্বামী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, রোকসানা ইয়াসমিন (২২), চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তাঁর সঙ্গে মো. সারোয়ার হোসেনের পরিচয় হয়। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সারোয়ার চীনে চলে গেলেও ডিসেম্বর মাসে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরে আসেন এবং তাদের সম্পর্ক অব্যাহত থাকে।
২০২০ সালের ১৫ জুলাই রোকসানার পরিবারের সদস্যরা তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট চিরিরবন্দর রেলস্টেশন থেকে সারোয়ারকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে আটকে রেখে দুই দিন ধরে মারধর করা হয়। এ সময় তাদের সম্পর্ক চালিয়ে গেলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
পরিস্থিতির কারণে কিছুদিন যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও পরে গোপনে আবার যোগাযোগ শুরু করেন তারা। ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর চিরিরবন্দর মহিলা কলেজের সামনে রোকসানা ও তাঁর স্বামীকে কয়েকজন ব্যক্তি আটক করেন বলে অভিযোগ করে। এ সময় রোকসানাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর স্বামীকে মারাত্মকভাবে মারধর করা হয়, যা তিনি হত্যাচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি তারা গোপনে বিয়ে করেন।
২০২২ সালের ৫ মে পরিবারের সদস্যরা বিয়ের বিষয়টি জানতে পারলে তাদের ওপর চাপ ও হুমকি আরও বাড়ে। একই বছরের ১৭ জুলাই ভোরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে রোকসানাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর স্বামীকে লাঠি, ক্রিকেট ব্যাট, স্টাম্প ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে জানান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
রোকসানা আরও জানান, পরবর্তীতে তাঁকে ও তাঁর মাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে রাখা হয়। পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেলে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান তাঁর স্বামী।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গর্ভবতী হন। তবে ২৫ এপ্রিল তাঁর পরিবার তাঁকে জোরপূর্বক একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। পরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং আত্মগোপনে চলে যান।
ক্রমাগত হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এই দম্পতি।
রোকসানার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী রোমানিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানে যান। এ সময় তিনি দেশে থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
বর্তমানে রোকসানা ইয়াসমিন তাঁর সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে আত্মগোপনে আছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর স্বামী ইতালিতে অবস্থান করছেন এবং পরিবারের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
রোকসানা ইয়াসমিনের দাবি, এখনো তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি অব্যাহত রয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, স্বামী দেশে ফিরলে তিনি প্রাণনাশের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
রোকসানা ইয়াসমিন আরো বলেন,”তিনি বিশ্বাস করেন তার স্বামী দেশে ফিরলেই তাকে হত্যা করা হবে।”