চাকরিতে পুনর্বহাল, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত ও ছাঁটাই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানবন্ধন করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের-ডিএসইর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুতরা অভিযোগ করেন, যথাযথ কারণ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তারা বলেন, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিএসইর কার্যক্রমের সঙ্গে লাখো বিনিয়োগকারীর স্বার্থ জড়িত। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই নিয়ে বিতর্ক হলে তা প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তাদের ভাষ্য, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত হলে সেটিও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা উচিত। আর অনিয়ম থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত মো. আব্দুল লতিফ বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ২০ বছরের বেশি সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৬ এপ্রিল তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাব দেওয়ার পর ১৮ জুন ডিএসই কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানায় তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
কিন্তু এর মাত্র এক সপ্তাহ পর ২৫ জুন নতুন কোনো অভিযোগ বা তদন্ত ছাড়াই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে শুধু ‘পদের প্রয়োজন নেই’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের স্থায়ী কর্মকর্তার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ২৩ জুলাই এক চিঠিতে ডিএসইর এ ধরনের চাকরিচ্যুতিকে ‘বেআইনি ও একতরফা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে নির্দেশ দিয়েছে।