চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি জমায়েত হয়েছিলেন কয়েক শ বাংলাদেশি। বিজিবি ও স্থানীয় বাংলাদেশিদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে বিএসএফ ২০ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছে।
আজ শনিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সীমান্তটিতে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে শুক্রবার রাতে চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ১১ জন নারী, চারজন শিশু ও পাঁচজন পুরুষ ছিলেন। পরে বিজিবির বাঁধার মুখে তারা সীমান্তের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’-এর ভারতীয় অংশে অবস্থান নেয় তারা।
বিজিবির ৫৯ ব্যাটায়িলনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুশইন নিয়ে সকালে বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ২০ জনকে ফিরিয়ে নেন। সীমান্তের ১৭৮/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পতাকা বৈঠকে অবৈধ পুশ ইন নিয়ে বিএসএফকে কড়া বার্তা দিয়েছে বিজিবি।
এদিকে, বিএসএফের পুশইন ঠেকাতে চৌকা সীমান্তে জড়ো হয় শত শত গ্রামবাসী। তারা পুশইনবিরোধী নানান স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুরো সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে থাকা চৌকা গ্রামের মো. কাওসার হোসেন বলেন, ‘আমরা এসেছি আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে। বিএসএফ কেন এভাবে মানুষদের পাঠাবে বাংলাদেশে। আমরা বিএসএফের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড মেনে নেব না।’
রেজাউল করিম নামের আরেকজন বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে সীমান্তে রয়েছি। যতক্ষণ না বিএসএফ সদস্যরা ওই ২০ জনকে না নিয়ে যাবে, আমরা সীমান্ত থেকে সরব না।’
পরে বিএসএফ ওই ২০ জনকে ফিরিয়ে নেওয়ার পর সরে যায় গ্রামবাসী।
এই চৌকা সীমান্তেই ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিএসএফ অনুমতি ছাড়াই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছিল। তখনই বিজিবির সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দারা।