শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আর্জেন্টিনা সমর্থক সাংবাদিকদের হারালেন ব্রাজিল সমর্থক সাংবাদিকরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুততম হ্যাটট্রিকে রেকর্ড ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলের চট্টগ্রামে ৮০০ একর জমিতে হবে ‘চাইনিজ শিল্প পার্ক’, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ গণভোটের রায় নিয়ে প্রতারণা করলে, হাসিনার পরিণতি হবে তারেক জিয়ার বিশ্বকাপ থেকে ১২ দল আউট, নকআউট নিশ্চিত করল ২৮ দল বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও সুশাসনের বিকল্প নেই: ড. তিতুমীর তুরাগে ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন ইউনিকো হসপিটালে ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং কর্মশালা
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও সুশাসনের বিকল্প নেই: ড. তিতুমীর

প্রতিবেদকের নাম

বাংলাদেশের বীমা খাতকে একটি কার্যকর, টেকসই ও জনআস্থাভিত্তিক খাতে পরিণত করতে হলে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব, প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে খাতটিকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরের হোটেল একাত্তরে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট-পরবর্তী বীমা খাত: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বীমা খাতে প্রত্যাশিত মাত্রায় ডিজিটালাইজেশন হয়নি। ফলে গ্রাহকসেবা, দাবি নিষ্পত্তি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে শুধু গ্রাহক সন্তুষ্টিই বাড়বে না, একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই দুর্যোগজনিত ক্ষতি মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী বীমা খাত গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।

অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, শুধু প্রচলিত তদারকির ওপর নির্ভর করলে হবে না। খাতভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করেই বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইআরএফের সভাপতি গোলাম মওলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি সাঈদ আহমেদ (এমপি), বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে—গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ শক্তিশালী করা এবং মানবসম্পদের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

তিনি জানান, বর্তমানে বীমা খাতে গ্রাহকদের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর কিছু সমস্যা পুরো খাতের, আবার কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আইডিআরএ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রিতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষি, জলবায়ু ও মাইক্রোইন্স্যুরেন্সের মতো নতুন খাতে বীমা সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ (এমপি) বলেন, বীমা কমিশনকে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও অনিয়মের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মোটরযান বীমাকে আরও কার্যকরভাবে বাধ্যতামূলক করা এবং নতুন নতুন খাতে বীমা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী বলেন, দেশে এমন অনেক বীমা কোম্পানি রয়েছে, যারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তি করে। কিন্তু এসব ইতিবাচক উদ্যোগ খুব কমই প্রচার পায়। বরং যেখানে দাবি পরিশোধে বিলম্ব বা জটিলতা হয়, সেগুলোই বেশি আলোচিত হয়। ফলে বীমা খাতের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও জনসাধারণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, নন-লাইফের তুলনায় লাইফ বীমা খাতে সংকট বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি এবং তারল্য সংকট নিরসনে ব্যাংক ঋণ সহায়তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহজ করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের গুরুত্ব অনেক হলেও এটি এখনো অবহেলিত। বীমার প্রবেশযোগ্যতা খুবই কম, যা বাড়াতে হবে। দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, স্বল্পমেয়াদি লাভের মানসিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এ খাতের প্রধান সমস্যা। পাশাপাশি কৃষি ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমার পরিধি বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, আর্থিক খাতে নৈতিক ঝুঁকি, দুর্বল সুশাসন ও জবাবদিহির সংকট দূর করা না গেলে বীমা খাতেরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

সেমিনারের বক্তারা একমত হন, বীমা খাতের উন্নয়নে গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং খাত-সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বীমা খাতের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম শাহীন, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইদুল আমিন, পদ্মা ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিদুজ্জামান, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিকী, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ জামাল হাওলাদার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শহিদুল্লাহসহ বীমা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক ও সাংবাদিকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা