শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
ইয়ুথ বাংলা টেলিভিশন ইউকে , ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া ,ফ্রান্স, কানাডা , সিংগাপুর , মালেশিয়াতে স্যাটেলাইটে সম্প্রচারিত টেলিভিশন চ্যানেল যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনলাইনে অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্প্রচারের জন্য এনওসি প্রাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ব্যাটারিচালিত রিকশায় নতুন নিয়ম, নিবন্ধন ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট

সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার, মেয়াদ পাঁচ বছর; বুয়েটের মানদণ্ড পূরণ না করলে সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর: সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন বিধিমালা জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ না করলে কোনো ই-রিকশা সড়কে চলতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।

কোন সড়কে চলবে, কত গতি

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশাকে সড়কের বাম লেন দিয়ে চলাচল করতে হবে। তবে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে এসব যান চলাচল করতে পারবে না।

সাধারণ সড়কে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।

যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ

ই-রিকশার ধরন ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।

নিবন্ধন পেতে যেসব শর্ত

ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। নির্ধারিত আবেদন ফরমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিতে হবে।

আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যানবাহনের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হবে। সব শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কত

বিধিমালায় যাত্রী ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশা: এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা।
  • চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশা: এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা।
  • ফিটনেস সনদের ফি: প্রতি ই-রিকশার জন্য ১ হাজার টাকা।

প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশাকে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নির্ধারিত নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। এগুলো যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।

নিবন্ধন ছাড়া চলাচল নয়, আয়ুষ্কাল ১২ বছর

ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত ফি দিয়ে নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধন গ্রহণ বা নবায়ন ছাড়া সড়কে ই-রিকশা চালানো যাবে না।

বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নিবন্ধন পেতে বুয়েটের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নকশা পরিবর্তন করতে হবে। প্রতিটি যানবাহনে স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো নিষিদ্ধ।

চার্জিংয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা

ই-রিকশার ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে চার্জ দিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার বিধানও রয়েছে।

নিয়ম ভাঙলে দণ্ডনীয় অপরাধ

নতুন বিধিমালায় নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা যানবাহনের কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ সড়কে চলাচলকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে যান চালানো ও দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে সঙ্গে সঙ্গে যান থামাতে হবে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, কারিগরি নিরাপত্তা, চলাচল ও চালকদের দায়িত্বের বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করা হলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা