ভারতে নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়লেও সন্তান জন্মের পর কর্মক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাতৃত্বের পর বিপুলসংখ্যক নারী চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দেশটির শ্রমবাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত অশোকা ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭৩ শতাংশ নারী সন্তান জন্মদানের পর কর্মজীবন থেকে সরে দাঁড়ান। অনেকেই পরে কাজে ফেরার চেষ্টা করলেও তা সহজ হয় না। যারা পুনরায় চাকরিতে যোগ দেন, তাদের প্রায় অর্ধেক চার মাসের মধ্যেই আবার কর্মক্ষেত্র ছাড়তে বাধ্য হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতিতে ভোগা ভারতের জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যা। কারণ, প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে অভিজ্ঞ কর্মী হারাচ্ছে, অন্যদিকে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করা সময় ও অর্থও নষ্ট হচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য বেনিয়ান’-এর পরিচালক স্বাতী জৈনের ভাষ্য, শিশু লালন-পালনের বিষয়টি এখন আর শুধু পরিবারের দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সরাসরি অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ভারতে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা জি-২০ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। গবেষকরা বলছেন, শিশু পরিচর্যার দায়িত্ব এবং নির্ভরযোগ্য চাইল্ডকেয়ার সুবিধার অভাব নারীদের কর্মজীবনে টিকে থাকার অন্যতম বড় বাধা।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, দেশটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ৩০ বছর বয়সের আগেই কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্বই এর প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।
কো-ওয়ার্কজেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিশাল দত্ত ওয়াধওয়ার মতে, নারীরা কাজ করতে অনিচ্ছুক বলে কর্মক্ষেত্র ছাড়ছেন না; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থাই তাদের জন্য চাকরি চালিয়ে যাওয়া কঠিন করে তুলছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের যাতায়াত, নির্ভরযোগ্য শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার অভাব এবং প্রচলিত অফিস সংস্কৃতি নারীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে একপর্যায়ে অনেকেই চাকরি ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হিমশিম খেয়ে কর্মক্ষেত্র থেকে সরে যান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অফিস অবকাঠামোর মতো চাইল্ডকেয়ার ব্যবস্থাকেও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান সহায়ক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কর্মস্থলকে পরিবারের কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং যাতায়াতের সময় কমানোর মতো উদ্যোগ নারীদের কর্মজীবনে ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।